ফেনী শহরে টানা পাঁচ দিন অব্যাহত উচ্ছেদ অভিযানে ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়েছে। অভিযানে শহরের প্রধান সড়ক ট্রাংক রোড, শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়ক, মহিপাল, কুমিল্লা বাসস্ট্যান্ড, কলেজ রোড, মিজান রোডসহ অলিগলিতে সড়কের ওপর অস্থায়ীভাবে গড়ে তোলা দোকানপাট ও ভাসমান হকারদের উচ্ছেদ করা হয়। জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও পৌরসভার সম্মিলিত এ উদ্যোগে শহরে পথচারীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি বিরাজ করছে। সম্প্রতি শহরের ফুটপাত দখল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। পৌরসভার দায়িত্বহীনতার অভিযোগে বিরক্তি প্রকাশ করেন নেটিজেনরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কিছুদিন ধরে শহরের ফুটপাতে অবৈধভাবে দখল করে দোকানপাট গড়ে তোলা হয়। এতে পথচারী চলাচলে ভোগান্তির শিকার হন। গত সোমবার থেকে পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান শুরু হয়। ফুটপাত ও ফুটপাতের পাশের সড়কে বসানো অস্থায়ী দোকান, সাইনবোর্ড ও অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার থেকে অভিযানে যুক্ত হয় জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে আবার না বসতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
শহর ব্যবসায়ী সমিতির অ্যাডহক কমিটির সদস্য ও ফেনী প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি এ কে এম আব্দুর রহীম বলেন, শহরের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো যানজট। এ যানজট সমস্যায় পৌরবাসী নাকাল। বছরের পর বছর এ সমস্যা চলছে। সমস্যা সমাধানের জন্য জেলা পুলিশ সুপারের উদ্যোগে অভিযান হচ্ছে। উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কাজে আসছে না। কারণ, দোকানের সামনে যেসব ফেরিওয়ালা বসেন, তাদের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হয়। এ কারণে প্রশাসন চলে যাওয়ার পর আবার বসেন তারা। দোকানদারকে জরিমানা করা হলে এর একমাত্র সমাধান বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাইয়ুম সোহাগ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ফেনী শহরের সৃষ্ট যে বিশৃঙ্খলা অর্থাৎ ফুটপাত দখল করে মানুষের যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। আমরা এখন পুলিশের অভিযান দেখতে পাচ্ছি। এ অভিযানের ফলে জনমনে স্বস্তি ফিরেছে। এজন্য আমরা পুলিশ প্রশাসন, পৌরসভাকে ধন্যবাদ জানাই।’
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠক ওসমান গণি রাসেল বলেন, ফেনীর পুলিশ প্রশাসন, পৌর প্রশাসনের সমন্বয়ে যানজট নিরসনে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। বিশেষ করে গত তিন দিন ফেনীর পুলিশ সুপার, পৌর প্রশাসক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতারা শহরে যত্রতত্র পার্কিং, অবৈধ উচ্ছেদ এসব বিষয় যে উদ্যোগ নিয়েছেন, ফেনীবাসী সেই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। ফেনীর মানুষ দেখতে পাচ্ছে এতে অনেক বেশি স্বস্তি ফিরেছে। পাশাপাশি এ ধারা যেন অব্যাহত থাকে। সকালে অভিযান হওয়ার পর বিকেলে বসে এটা যেন আর না হয়, সেদিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
একাধিক পথচারী জানান, শহর ঝঞ্ঝাটমুক্ত ও পথচারীদের নির্বিঘœ চলাচলে এ অভিযান চলমান রাখতে হবে। পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় অতীতের মতো যেন এ পরিবেশ বিঘিœত না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।
পথচারী মোহাম্মদ সোহরাব বলেন, ‘যে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে, তা যেন অব্যাহত থাকে। সবসময় এটা হয়তো করা যাবে না। আমাদের অনুরোধ, প্রয়োজনে এর জন্য যেন আলাদা উইং করা হয়।’
পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘গত সোমবার থেকে আমরা শুরু করেছি। রাস্তা অবৈধ দখলমুক্ত করার জন্য আমরা এখানে জেলা প্রশাসক থেকে একজন ম্যাজিস্ট্রেট আছেন, বিপুলসংখ্যক পুলিশ ছাড়াও পৌরসভার প্রশাসকসহ লোকজন আছে, আমরা এখানে চেষ্টা করে যাচ্ছি যে, যাতে আমাদের রাস্তাঘাট হকারমুক্ত করা যায়। সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আপনারা লক্ষ করছেন, রাস্তার ওপর গ্যাসের অনেক লাইন আছে, অনেকগুলো হোটেল রাস্তার ওপর রান্নাবান্না করছে। যেসব অবৈধ জায়গা দখল করে আছে, সে জায়গাগুলো দখলমুক্ত করতেও আমরা একযোগে কাজ করে যাচ্ছি।’
ফেনী পৌরসভার প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেন, ‘উচ্ছেদ কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। পুলিশ প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত রাখতে নাগরিকদেরও সদিচ্ছা থাকতে হবে। এ প্রত্যয়টা যদি সবার থাকে ও সবাই যদি আন্তরিক হই, তাহলে সম্ভব হবে।’
