মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যপ্রাচ্য শান্তি সম্মেলনে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। রবিবার (১২ অক্টোবর) দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান মিসরের শারম আল-শেখে আয়োজিত সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এরপর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচিকেও সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। তবে তিনি জানিয়েছেন, তিনিও শারম আল-শেখ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন না।
নিজের এক্স (পূর্বের টুইটার) অ্যাকাউন্টে আরাঘচি লিখেছেন, ‘আমরা কূটনৈতিক সংলাপকে গুরুত্ব দিই, তবে যারা ইরানি জনগণের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং এখনো হুমকি ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে, তাদের সঙ্গে আমরা কোনো বৈঠকে বসতে পারি না।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাকাই ইরনা সংবাদ সংস্থাকে বলেন, মিসরের আমন্ত্রণের জন্য ইরান কৃতজ্ঞ, তবে দেশটি শারম আল-শেখ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা রাখছে না।
আজ সোমবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে শারম আল-শেখে শুরু হবে এই শান্তি সম্মেলন। মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে বিশটিরও বেশি দেশের নেতারা যোগ দেবেন। মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্মেলনটি সহ-সভাপতিত্ব করবেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকেও সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। স্কাই নিউজ আরবিয়ার খবরে বলা হয়, আমন্ত্রিত নেতাদের তালিকায় ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের নামও ছিল।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড–ঘনিষ্ঠ ফার্স নিউজ জানায়, আমন্ত্রণ পাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান অংশ নেবেন কি না, তা নিয়ে রবিবার রাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত দেশটির অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নাকচ হয়ে যায়। আরেক গার্ড–সম্পর্কিত সংবাদমাধ্যম তাসনিমও নিশ্চিত করে জানায়, ইরান সম্মেলনে যোগ দেবে না।
মিসরের প্রেসিডেন্ট দপ্তরের ভাষায়, ‘গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটানো, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রচেষ্টা জোরদার করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন অধ্যায় সূচনাই এই সম্মেলনের লক্ষ্য।’
মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, গাজা শান্তিচুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মিসরে যাবেন। এতে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হামাসের মধ্যে দুই বছরের যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে।
এর আগে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইসরায়েল ও হামাস গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে সম্মত হয়েছে। সোমবার তিনি প্রথমে ইসরায়েল সফর করবেন এবং প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে দেশটির পার্লামেন্ট ‘কনেসেটে’ ভাষণ দেবেন।
তবে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইসরায়েলকে শারম আল-শেখ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
ইউরোনিউজ জানায়, সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন জার্মানি, স্পেন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার নেতারা বা পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইসরায়েল গাজার সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখবে। অন্যদিকে, আরব ও মুসলিম দেশগুলোর সেনাদের নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী গাজার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা তদারক করবে। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্ব দেবে এবং একটি আন্তর্জাতিক তহবিল গঠন করা হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি জানান, তেহরান ট্রাম্পের পরিকল্পনার কিছু অংশের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে, তবে সম্মেলনে যোগ দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
সুন্দরবনের হাড়বাড়িয়ায় চোখের সামনে বাঘ
নরসিংদীতে ব্যাটারি কারখানায় বিস্ফোরণ, ৭ শ্রমিক দগ্ধ
রোনালদো তোরেসের পেনাল্টি মিস হ্যাটট্রিক হালান্ডের