৫ দিনব্যাপী ফার্নিচার মেলা শুরু

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৫৩ এএম

দেশীয় ফার্নিচার শিল্পের বিকাশে রাজধানীতে শুরু হয়েছে ৫ দিনের ফার্নিচার মেলা। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কুড়িলে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) মেলার উদ্বোধন করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। ২০তম জাতীয় ফার্নিচার মেলার এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘আমার দেশ, আমার আশা-দেশীয় ফার্নিচারে সাজাব বাসা’। এই মেলা দেশের ফার্নিচার শিল্পের সবচেয়ে বড় আয়োজন।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, আসবাবপত্র শিল্পের বিকাশ এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেছেন, দেশের আসবাবপত্র শিল্পের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। এ শিল্পের উন্নয়নে বিনিয়োগ আরও বাড়াতে হবে। এ সময় তিনি দেশের সম্পদ ও সুযোগকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে দ্রুততম সময়ে বৈশ্বিক আসবাবপত্রের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ ফার্নিচার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সেলিম এইচ রহমানের সভাপতিত্বে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ এবং বাংলাদেশ ফার্নিচার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি ড. কে এম আখতারুজ্জামান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, বিগত সরকার অর্থনৈতিক বুদ্বুদ তৈরি করেছিল। যা কর্মসংস্থান তৈরি না করলেও ব্যাংকের ব্রাঞ্চসহ কিছু অফিস বেড়েছিল। সংগত কারণেই বর্তমান সরকারকে অর্থনীতিতে সংকোচনমূলক নীতি গ্রহণ করতে হয়েছিল। নয়তো অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতো না।

তিনি বলেন, ফার্নিচারের ফাংশনাল ও এসথেটিক এট্রিবিউট হচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় উদ্ভাবন হচ্ছে না। নীতিগতভাবে সরকার যত আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার; তা করছে। ব্যবসায়ীদের দরকার উদ্ভাবন বাড়ানো। ফার্নিচার শিল্পের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নতুন নতুন বাজার খুঁজতে কাজ করছে। এই শিল্পে নান্দনিকতা ও রুচির বহিঃপ্রকাশ আছে। তা নিয়ে কাজ করতে হবে।

 উপদেষ্টা আরও বলেন, ফার্নিচারের দামের জন্য নয়, উদ্ভাবনের জন্য ক্রেতারা আমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। আমাদের উচিত হবে ফার্নিচার শিল্পে উদ্ভাবনী সক্ষমতা বাড়ানো। আমরা কিছু দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। নিশ্চিত করে বলতে পারি তা ফার্নিচার শিল্পের জন্য সুযোগ তৈরি করবে।

উল্লেখ্য, এ মেলায় মোট ৪৮টি ফার্নিচার কোম্পানি অংশ নিচ্ছে। এতে স্টল রয়েছে ২৭৮টি।

বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারের গুলনকশা (হল-১), পুষ্পগুচ্ছ (হল-২) এবং রাজদর্শন (হল-৩) হলে পাঁচ দিনের এই মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ‘আমার দেশ, আমার আশা-দেশীয় ফার্নিচারে সাজাব বাসা’ সেøাগানে আয়োজিত এই মেলা দেশের ফার্নিচার শিল্পের সবচেয়ে বড় আয়োজন।

ফার্নিচার মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীরা জানান, দেশীয় ফার্নিচার শিল্প দেশের শতভাগ চাহিদা পূরণ করছে এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্য বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। এবারের মেলার মূল লক্ষ্য হলো দেশীয় ফার্নিচার শিল্পের বিকাশ ঘটানোর পাশাপাশি রপ্তানি বাজার আরও সম্প্রসারণ করা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত