রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রশাসন অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণ প্রতিরোধে গবাদি পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে ছাড়পত্র ছাড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা গতকাল বুধবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি মঙ্গলবার বিকেলে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
ইউএনও মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, রংপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় গবাদি পশুর মধ্যে অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই রোগ পশু থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গঙ্গাচড়া উপজেলায় মাংস ব্যবসায়ীদের জন্য একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর বা ভেটেরিনারি হাসপাতালের ছাড়পত্র ব্যতীত কোনো পশু জবাই করা যাবে না। ইউএনও আরও জানান, ছাড়পত্র ছাড়া পশু জবাই করলে প্রমাণসাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, রংপুর নগরীর মেডিকেল পূর্বগেট, ধাপ, লালকুঠির মোড়, সিটি বাজার, বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন এলাকার গরুর মাংসের দোকানে পরীক্ষার রিপোর্ট প্রদর্শন করা হচ্ছে। ক্রেতারা পরীক্ষার রিপোর্ট ছাড়া মাংস কিনছেন না। এ ছাড়া, জবাইয়ের আগের রাতে গরুগুলো প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করা হয় রংপুর প্রাণিসম্পদ দপ্তরের প্রতিনিধিদের দ্বারা। পরবর্তী দিন ছাড়পত্রপ্রাপ্ত গরুগুলো জবাই করা হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রংপুর জেলার পীরগাছা, কাউনিয়া এবং মিঠাপুকুর উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গসহ ৫৩ রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। আক্রান্তদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, রংপুরে ছড়িয়ে পড়া অ্যানথ্রাক্স হলো ‘কিউটেনিয়াস অ্যানথ্রাক্স’, যা ত্বকে সংক্রমণ ঘটায়। এটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না, তবে সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি।
রংপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবু ছাইদ জানান, অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে পীরগাছা, কাউনিয়া, মিঠাপুকুর এবং রংপুর সদরে গবাদি পশুর অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, জবাইয়ের আগে গরুগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে, যাতে কোনো অসুস্থ গরু জবাই না হয়। অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে পরিকল্পিতভাবে কাজ চলছে।
