আসিফ নজরুল বললেন

উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে সমালোচনা ভালো গণতান্ত্রিক উত্তরণ

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৩২ এএম

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন পক্ষের সমালোচনাকে গণতান্ত্রিক উত্তরণের ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আগের সরকারের আমলে সরকারি দলের লোকজন অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে হুমকি দিত। এখন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের বিভিন্ন দল ও পক্ষ থেকে খোলাখুলি সমালোচনা করা হচ্ছে।

এটি গণতান্ত্রিক উত্তরণের একটি ভালো লক্ষণ।’

তবে আসিফ নজরুল বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রতিও আমার পরামর্শ, অন্যরা আপনাদের বিরুদ্ধে একই ধরনের সমালোচনা করলে তা গ্রহণের মানসিকতা রাখতে হবে।’

ড. আসিফ নজরুল জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশের খসড়া উপদেষ্টা পরিষদে উপস্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশনের অন্যতম প্রস্তাব ছিল সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা। প্রধান বিচারপতির সংস্কার ভাবনার মধ্যেও এটি অন্তর্ভুক্ত। আমরা এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছি। কিছু বিষয়ে মতভিন্নতা থাকলেও আরও আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধানের চেষ্টা চলছে। আশা করি, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অধ্যাদেশটি উপদেষ্টা পরিষদে পেশ করা হবে, এবং পরিষদের অনুমোদন পেলে তা পাস হবে।’

তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘এই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই আমরা সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে পারব।’

জুলাই সনদে সব রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করবে কি না, এমন প্রশ্নে আসিফ নজরুল বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো কী করবে, তা আমি বলতে পারি না। তবে তারা যে নিষ্ঠার সঙ্গে আলোচনা প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছে, তাতে আমি বিশ্বাস করি, তারা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে। সনদের বিষয়বস্তু নিয়ে কোনো মতভেদ নেই, মূল আলোচনা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে। আশা করি, সবাই এতে স্বাক্ষর করবে।’

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদ্ধপরিকর। এ বিষয়ে কোনো দ্বিধা বা দ্বিতীয় চিন্তার সুযোগ নেই।’

উচ্চ আদালতে যদি সংস্কার না হয়, তবে বিচারপ্রার্থীরা সুফল পাবে না : আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, নিম্ন আদালতে সংস্কার হলেও উচ্চ আদালতে যদি সংস্কার না হয়, তবে আসলে কোনো লাভ হয় না। এতে বিচারপ্রার্থীরা সুফল পাবেনা। আমি শুনেছি, নিম্ন আদালতে যে মামলা নিষ্পত্তি হয়, তা উচ্চ আদালতে বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। যেমন শিশু আছিয়ার মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় নিম্ন আদালতে আমরা এক মাসে বিচার কাজ শেষ করতে পারলেও উচ্চ আদালতে আগামী কয়েক বছরেও এই মামলার নিষ্পত্তি সম্পন্ন করা যাবে কি না তা জানি না। আমাদের উচ্চ আদালতের বিচারক অনেক সময় নিম্ন আদালতে ইনসপেকশনে যান, কিন্তু তা আনন্দভ্রমণে পরিণত হয়।

গতকাল বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলার সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে ‘ই- বেইলবন্ড’ কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিচার ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও বিচারপ্রার্থী জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে প্রচলিত বেইলবন্ড দাখিল পদ্ধতির পরিবর্তে ডিজিটাল মাধ্যমে ই বেইলবন্ড প্রবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। যা বিচারপ্রার্থী, কারা প্রশাসন ও আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ে সহায়ক হবে। প্রথম ধাপে আজ থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলায় এ কার্যক্রম শুরু হলো।

আসিফ নজরুল আরও বলেন, ‘আমরা লিগ্যাল এইডের ব্যবস্থা করেছি। যেন ছোটখাটো বিরোধ নিয়ে কোর্টে যেতে না হয়। সেই লক্ষ্যে আমরা অনেকগুলো সংস্কার করেছি। এটাও পাইলট পর্যায়ে রয়েছে। আমরা আশা করছি, আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে ই-বেইলবন্ড, অনলাইন লিগ্যাল এইড সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পারব। এখন আমরা যদি নিম্ন আদালতে সংস্কার করি, তাহলে আমাদের আবার দুঃখ লাগে।

তিনি আরও বলেন, ‘ধামরা যে সংস্কারগুলো হাতে নিয়েছি, তার মূল লক্ষ্য হলো ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, বিচারপ্রার্থী মানুষের ভোগান্তি কমানো এবং তাদের অর্থের সাশ্রয় করা।’

সরকারি কর্মকর্তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের বিষয়ে ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘ডাক্তার, ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশসহ সরকারি কর্মকর্তাদের সাক্ষ্যকে দ্রুত করার জন্য আমরা অনলাইনভিত্তিক সাক্ষ্য প্রবর্তনের উদ্যোগ নিচ্ছি।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু শামীম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত