রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাই এবং র্যাব ও ডিবির পোশাকে আন্তঃজেলা ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৭ জন আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য, ৩ জন মোটরসাইকেল চোর এবং ২ জন ছিনতাইকারী। গত বুধবার রাত থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে পৃথক সংবাদ সম্মেলন এবং বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশ ও র্যাব।
ডিবি ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন জানান, উত্তরা রাজউক মডেল কলেজ এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতির গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন আব্দুল জব্বার, মামুন হোসেন, মো. সোহাগ, আবু বক্কর সিদ্দিক ও রুহুল আমিন। তাদের কাছ থেকে ডিবি পুলিশের জ্যাকেট, ওয়াকিটকি, হ্যান্ডকাফ, নেমপ্লেট ও একটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়। এই দলটি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতি করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি মামলা রয়েছে। পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডিবি তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার রাকিব খান জানান, সাতটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন চাঁদ মিয়া, জাহিদ মাতব্বর ও দিপু মালাকার। গত ৫ আগস্ট রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ পুলিশ বক্সের সামনে থেকে মো. ফাহাদের মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা হয়। তদন্তে নেমে নরসিংদীর পলাশ থানা থেকে চাঁদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, জাহিদ মাতব্বরের সহায়তায় মোটরসাইকেলটি চুরি করে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দিপু মালাকারের কাছে বিক্রি করা হয়। পরে দিপুকে গ্রেপ্তার করে তার গ্যারেজ থেকে সাতটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এরপর মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিং থেকে জাহিদ মাতব্বরকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাকিব খান জানান, জাহিদ মোটরসাইকেলের মালিককে অনুসরণ করতেন এবং চাঁদ মিয়া কৌশলে লক ভেঙে চুরি করতেন। এরপর দিপুর কাছে এসব মোটরসাইকেল বিক্রি করা হতো।
ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার মহিদুল ইসলাম জানান, উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় মোটরসাইকেলে হেলমেট পরে ছিনতাই করা একটি চক্রের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন সাইফুল ইসলাম শাওন ও ফারুক হোসেন। মঙ্গলবার উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের রবীন্দ্র সরণি রোডে ঢাকা আই-কেয়ার হাসপাতালের সামনে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। এই চক্রটি ব্যাংক, এটিএম বুথ ও অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে টাকা তুলে বের হওয়া ব্যক্তিদের অনুসরণ করে ছিনতাই করত। সাইফুলের বিরুদ্ধে ১০টি এবং ফারুকের বিরুদ্ধে দুটি ছিনতাই মামলা রয়েছে।
রাজধানীর বনশ্রীতে র্যাবের পোশাকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৩। গ্রেপ্তাররা হলেন সবুজ প্রকাশ সূর্য ও জাহাঙ্গীর আলম খান। তাদের কাছ থেকে র্যাবের কোট, হ্যান্ডকাফ, ওয়াকিটকি, আইডি কার্ড, পিস্তলের কভার, লেজার লাইট, পুলিশ ট্র্যাকসুট, সুইচ গিয়ার চাকু ও বৈদ্যুতিক শক মেশিন উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার রাতের অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে ৩ জন পালিয়ে যায়। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। র্যাব জানায়, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গৃহ, সড়ক, বাস, গরুবাহী ট্রাক ও মালবাহী ট্রাকে ডাকাতি করে আসছিল। গ্রেপ্তারদের রামপুরা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
