ঢাকার বাজারে গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন সবজির দাম উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। বেশিরভাগ সবজির দাম এখনো সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। কিছু সবজির দাম সামান্য কমলেও তা এখনো তুলনামূলকভাবে বেশি। বিক্রেতাদের মতে, শীতের সবজি বাজারে পুরোপুরি না আসা পর্যন্ত দাম সহনীয় পর্যায়ে নামবে না। সবজির মতো মাছ ও মাংসের দামও স্থিতিশীল রয়েছে। অন্যদিকে, ব্যবসায়ীরা ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও সরকারের অনুমোদন না পাওয়ায় তা কার্যকর হয়নি। গুঞ্জন ছিল যে খুচরা বিক্রেতারা এই সুযোগে তেলের দাম বাড়িয়ে দিতে পারেন। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার বাজারে আগের দামেই সয়াবিন তেল বিক্রি হতে দেখা গেছে।
রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা, কারওয়ান বাজার, সেগুনবাগিচা, শান্তিনগরসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেগুনের দাম কিছুটা কমেছে। বাজার ও মানভেদে প্রতি কেজি বেগুন এখন ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কিছুদিন আগেও ১২০-১৫০ টাকা ছিল। কাঁচা মরিচের দামও কমেছে। টানা বৃষ্টির কারণে দাম কিছুটা বেড়েছিল, কিন্তু এখন তা ১৬০-১৮০ টাকার মধ্যে নেমেছে। কোথাও কোথাও কাঁচা মরিচ ১৪০ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হচ্ছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পটোলের দাম আগের মতোই ৭০-৮০ টাকা কেজি। মুলা, শসা, কচুর মুখীসহ বেশ কিছু সবজি ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শীতের সবজি হিসেবে পরিচিত আগাম শিম বাজারে এসেছে, তবে এর দাম অত্যন্ত চড়া, প্রতি কেজি ২৫০ টাকা। ক্রেতারা বলছেন, অতিরিক্ত আগাম হওয়ায় এই দাম সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে। এ ছাড়া ঢেঁড়স, ঝিঙে, কাঁকরোলসহ কিছু সবজি ৬০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। নতুন আসা বরবটির দাম এখনো ১০০ টাকা কেজি। গত সপ্তাহের মতোই বাজারে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে আলু ও কাঁচা পেঁপে। বাজারভেদে আলু ২০-৩০ টাকা এবং কাঁচা পেঁপে ২৫-৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লেবুর হালি আকারভেদে ২০-৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের বিক্রেতা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘কিছু সবজির দাম সামান্য কমেছে। শীতের সবজি বাজারে আসতে শুরু করলে দাম আরও কমবে। তবে এর জন্য আরও প্রায় এক মাস সময় লাগবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দাম বেশি থাকায় আমাদেরও সমস্যা হচ্ছে। ক্রেতারা কম পরিমাণে সবজি কিনছেন, কারণ দাম অনেক বেশি।’
এদিকে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া ভোজ্য তেলের ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন, যা বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করেছিল। তবে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের কঠোর অবস্থানের কারণে ব্যবসায়ীরা সরবরাহ কমিয়ে সংকট তৈরির সাহস পাননি। অতীতে শেখ হাসিনার সময়ে তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব সরকার অনুমোদন না করলে ব্যবসায়ীরা সরবরাহ কমিয়ে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতেন। এবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চাপে দাম বাড়ানোর ঘোষণা থাকলেও তেলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজারে সয়াবিন তেলের দুই লিটারের বোতল ৩৭৫-৩৭৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পাঁচ লিটারের বোতল বিক্রি হচ্ছে ৯২০-৯২২ টাকায়। খোলা সয়াবিন তেলের দামও অপরিবর্তিত, প্রতি লিটার ১৮৯-১৯০ টাকা। খোলা পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা কেজি।
বাড্ডার মুদি দোকানি মিজানুর রহমান বলেন, ‘কোম্পানির লোকজন তেলের দাম বাড়বে বলেছিলেন। কিন্তু সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে এখনো দাম বাড়েনি।’
ভোজ্য তেল ছাড়াও চিনি, ডাল, আদা, রসুনসহ অন্যান্য পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০৫-১১০ টাকা কেজি। ছোট দানার মসুর ডাল ১৫০-১৬০ টাকা, মাঝারি দানার ডাল ১৩০-১৪৫ টাকা এবং বড় দানার ডাল ১১৫-১২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
পেঁয়াজের দাম গত সপ্তাহের মতোই ৭০-৮০ টাকা কেজি।
ব্রয়লার মুরগির ডিমের দামও অপরিবর্তিত, প্রতি ডজন ১৩৫-১৪০ টাকা। ফার্মের সোনালি মুরগি ২৯০-৩১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ৩২০ টাকার ওপরে ছিল। ব্রয়লার মুরগির দাম ১৭০-১৮০ টাকা কেজি।
