ভেনেজুয়েলা থেকে মাদক পরিবহন করছে সন্দেহে একটি নৌযানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর বেঁচে যাওয়া দুজনকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা। বৃহস্পতিবারের এ হামলা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভেনেজুয়েলার জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের ষষ্ঠ হামলা হলেও; এবারই প্রথম কারও জীবিত থাকার কথা জানা গেল। গত শুক্রবার সর্বশেষ হামলাটির কথা নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যে নৌযানে হামলা হয়েছে সেটি ‘মাদক পরিবহনকারী সাবমেরিন’।
ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাঠাচ্ছে অভিযোগ করে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির নেতাদের নিয়মিত হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। এদিকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অভিযোগ করে বলেছেন, ট্রাম্প তার দেশকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের উপনিবেশ’ বানানোর চেষ্টা করছেন। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক কর্মকর্তারা দেশটির গণমাধ্যমগুলোকে জানান, আটকদের হেলিকপ্টারের সাহায্যে উদ্ধার করে ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে হামলার পর জীবিত কাউকে আটক করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করা হয়নি। এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করলে ট্রাম্প বলেন, এখন পর্যন্ত হওয়া হামলাগুলোতে ২৭ জনের মতো নিহত হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার নিশানা ছিল ‘মাদক সন্ত্রাসীরা’।
এদিকে, জাতিসংঘ-নিযুক্ত মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা যুক্তরাষ্ট্রের এমন হামলাকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ আখ্যা দিয়ে আসছেন। বৃহস্পতিবার দ্বীপদেশ ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো বলেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তাদের দুই নাগরিক নিহত হয়েছে এমন খবর তদন্ত করে দেখছে। ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো ভেনেজুয়েলার উপকূল থেকে মাত্র কয়েক মাইল দূরে অবস্থিত। জাতিসংঘে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল মনকাডা হামলায় নিহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের এমন হামলা বন্ধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ চেয়েছে। ক্যারিবীয় অঞ্চলে এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১০ হাজার সেনা আছে বলে নানাসূত্র বলছে। বুধবার মার্কিন বিমান বাহিনীর বি-৫২ বোমারু বিমানকেও ক্যারিবিয়ান সাগরের ওপরে কয়েক ঘণ্টা উড়তে দেখা গেছে। এ সবই ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পূর্বপ্রস্তুতি বলে অনেকেই মনে করছেন।
