যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজায় ইসরায়েলের নতুন হামলা

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:২০ এএম

যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরও গাজায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। ফিলিস্তিন কর্র্তৃপক্ষের দাবি, ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৪৭ বার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল। এতে ৩৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, আহতের সংখ্যা অন্তত দেড়শ। যুদ্ধবিরতির চুক্তির অংশ হিসেবে আরও দুই ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ ফেরত দিয়েছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। গত শনিবার রাতে দুটি কফিনে করে মরদেহগুলো রেডক্রসের কাছে হস্তান্তর করে হামাস। চুক্তির আওতায় গাজা উপত্যকার কর্র্তৃপক্ষের কাছে আরও ১৫ ফিলিস্তিনির মরদেহ ফেরত দিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। গতকাল রবিবার ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে। এদিকে, আন্তর্জাতিক আহ্বান উপেক্ষা করে এখনো রাফা সীমান্ত না খোলার সিদ্ধান্তে অনড় তেল আবিব।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১০ অক্টোবর গাজায় কার্যকর হয় বহুল আকাক্সিক্ষত যুদ্ধবিরতি। যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত ইসরায়েল মেনে চলবে কি না তা নিয়ে ছিল সংশয়। ফিলিস্তিনিদের সেই শঙ্কাই বাস্তবে রূপ নিয়েছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে গাজায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। ফিলিস্তিন কর্র্তৃপক্ষের দাবি, ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৪৭ বার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল। এর সঙ্গে মিলেছে হতাহতের তথ্য। গত দশ দিনে হতাহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা দেড় শতাধিক। এর মধ্যে শুক্রবার নিহত হয় একই পরিবারের ১১ জন। শুক্রবার সন্ধ্যায় গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় একটি গাড়িতে হামলা চালিয়ে তাদের হত্যা করা হয়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, গাড়িটি তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় প্রবেশ করেছিল। ইসরায়েলের এক সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হামাস রকেটচালিত গ্রেনেড ও স্নাইপার আক্রমণ চালিয়েছে। সে দাবি খারিজ করে হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা ইজ্জাত আল রিশেক জানান, তাদের সংগঠন যুদ্ধবিরতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে। উল্টো ইসরায়েলকেই একাধিকবার চুক্তি ভাঙার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন তিনি। হামাস বা ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের কেউই রবিবারের গাজা হামলার বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেনি।

এদিকে, আরও দুই ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ ফেরত দিয়েছে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস। গত শনিবার রাতে মরদেহের দুটি কফিন রেডক্রসের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে এ মরদেহ কোন কোন জিম্মির সেটি প্রকাশ করেনি হামাস। রাতেই সেগুলো গাজায় অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের কাছে পৌঁছে দেয় রেডক্রসের কর্মীরা। সেখান থেকে মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্ত করতে এগুলো ইসরায়েলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিবের আবু কবির ফরেনসিক ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। এগুলোর পরিচয় নিশ্চিত হতে দুইদিন বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় আরও ১৫ ফিলিস্তিনির মরদেহ ফেরত দিয়েছে ইসরায়েল। এ নিয়ে ইসরায়েলের কাছ থেকে ফিলিস্তিনি কর্র্তৃপক্ষ মোট ১৫০ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ ফেরত পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় প্রত্যেক মৃত ইসরায়েলির মরদেহের বিনিময়ে ১৫ ফিলিস্তিনির মরদেহ ফেরত দেওয়ার কথা রয়েছে ইসরায়েলের।

অন্যদিকে, গাজার বেসামরিক জনগণের ওপর হামাস হামলার পরিকল্পনা করছে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের হামলা সংঘটিত হলে তা সরাসরি যুদ্ধবিরতি চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে সম্ভাব্য হামলার বিস্তারিত কোনো তথ্য এবং তথ্যপ্রাপ্তির কোনো সূত্রের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে কিছু জানানো হয়নি। তবে চুক্তির অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী মিসর, কাতার ও তুরস্ককে বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত