ছয় ঘণ্টায় ২২৬৫ যাত্রীর চাপ সামাল দিল শাহ আমানত

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৩৪ এএম

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে শনিবারের ভয়াবহ অগ্নিকা-ের পর পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা দেখিয়েছে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। আগুনের কারণে ঢাকার এয়ারফিল্ড বন্ধ থাকায় ৮টি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইট অবতরণ করে বিমানবন্দরটিতে। এসব ফ্লাইটে যাত্রী ছিল ১ হাজার ২৬৫ জন। এ ছাড়া শাহ আমানত থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী আরও চারটি ফ্লাইটের প্রায় ১ হাজার যাত্রী ছিল। সব মিলিয়ে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে বিপুলসংখ্যক যাত্রীর চাপ সামাল দিয়েছে শাহ আমানত বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

 এই বিষয়ে শাহ আমানত বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘শাহ আমানতের টার্মিনালে যাত্রীর ধারণ ক্ষমতা ১ হাজার ৪০০। কিন্তু শনিবারের অগ্নিকা-ের জেরে একসঙ্গে ২ হাজার ৬৫ জন যাত্রীর চাপ সামাল দিয়ে যেন একটি সফল মহড়া দেখাল শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।’

বাড়তি কী কী চাপ সামলাতে হয়েছে জানতে চাইলে বিমানবন্দরের এই কর্মকর্তা জানান, ঢাকার শাহজালালে অগ্নিকান্ডের কারণে সেখানকার এয়ারফিল্ড বন্ধ থাকায় গত শনিবার বিকেল চারটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটের ৮টি ফ্লাইট অবতরণ করে শাহ আমানত বিমানবন্দরে। এসব ফ্লাইটে আসা যাত্রীদের টার্মিনালে বসানো, সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাত্রীদের খাবারের ব্যবস্থা করা, টার্মিনালে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তাদের মাইকে কাউন্সিলিং করা, এসব কর্মকান্ডই ছিল চ্যালেঞ্জিং।

শাহ আমানত বিমানবন্দর সূত্র জানায়, অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামাল দিতে বিমানবন্দরের প্রতিটি লাউঞ্জে ৩ থেকে ৪ জন করে সিভিল অ্যাভিয়েশনের কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া এতগুলো যাত্রীর স্যানিটেশন সেবা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী মোতায়েন করা হয়। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হয়। পাশাপাশি এয়ারফিল্ড কবে নাগাদ খোলা হচ্ছে সে বিষয়ে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে হয়েছে।

এদিকে শনিবারের দুর্যোগকালীন সময়ে (বিকেল ৪টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা) ঢাকা থেকে ডাইভার্ট হয়ে শাহ আমানত বিমানবন্দরে অবতরণ করা ৮টি এবং একই বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী আরও চারটি ফ্লাইটের জন্য অতিরিক্ত জেট ফুয়েলের ব্যবস্থা করতে হয়েছে বলেও জানান বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. ইব্রাহীম। ‘আল্লাহর কাছে শোকর। আমরা এত বড় একটা বিপদে ধৈর্য্য ধরে সব রকম পরিস্থিতি সামাল দিতে পেরেছি।’

চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে দুবাই যাওয়ার জন্য চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের পৌঁছেন মো. লোকমান। তার ছোটভাই মো. আলী বলেন, ‘বড় ভাইকে নিয়ে বিকেল চারটায় শাহ আমানত বিমানবন্দরে আসি। এসে শুনি ঢাকার বিমানবন্দরে আগুন লাগার কারণে আপাতত কোনো যাত্রীকে বিমানবন্দরে ঢুকানো হচ্ছে না। বিমানবন্দরের দায়িত্বরত এক কর্মকর্তার মাধ্যমে জানলাম আগুনের কারণে অনেক ফ্লাইট ডাইভার্ট হয়ে চট্টগ্রামে অবতরণ করেছে। ভাবছিলাম আজ আমার ভাইয়ের আর দুবাই যাওয়া হবে না। পরে রাত দশটার দিকে দুবাইগামী যাত্রীদের ভেতরে ঢোকার ডাক পড়লে স্বস্তি ফিরে আসে।’

সিভিল অ্যাভিয়েশনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘শনিবার বিকেল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ছিল রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি। ফ্লাইট নিয়ন্ত্রণ, যাত্রীদের অপেক্ষমাণ রাখা, যাত্রীদের সেবা নিয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এ সবই ছিল দারুণ অভিজ্ঞতার। সবচেয়ে বেশি চিন্তায় ছিলাম যাত্রীদের মধ্যে কোনো অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে কি না। সব মিলিয়ে কঠিন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে আমাদের।’

গত শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ কমপ্লেক্স ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। ১৩টি ফায়ার স্টেশনের ৩৭টি ইউনিটের প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন নেভাতে গিয়ে আনসার বাহিনীর ২৫ সদস্যসহ মোট ৩৫ জন আহত হয়েছেন। অগ্নিকান্ডের ঘটনার পর বিমানবন্দরে সব ধরনের উড়োজাহাজ ওঠানামা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ঢাকা থেকে ডাইভার্ট হয়ে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটের ১৪ থেকে ১৫টি ফ্লাইট সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণ করতে বাধ্য হয়।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর রাত ৯টার দিকে বিমানবন্দর চালু হয়। রাত ৯টা ৬ মিনিটে ফ্লাই দুবাই এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজ শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। শাহজালাল বিমানবন্দরের পোস্ট অফিস ও হ্যাঙ্গারের মাঝামাঝি স্থানে কার্গো ভিলেজ। আগুন লেগেছে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেটের পাশে কার্গো কমপ্লেক্স ভবনে। এই গেটকে হ্যাঙ্গার গেট বলা হয়। কার্গো ভিলেজের (পণ্য রাখার স্থান) যে অংশে আগুন লেগেছে, সেখানে আমদানি করা পণ্য রাখা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত