গবেষণাপত্র বিতর্ক: শেকৃবি উপাচার্যের নাম ব্যবহার, ‘কিছুই জানেন না’ ভিসি

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৫, ১১:৩০ এএম

অনুমতি ছাড়া শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফের নাম ব্যবহার করে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশের ঘটনায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। হঠাৎ ২০১৭সালে প্রকাশিত এই গবেষণা কপি করার অভিযোগ করা হলেও বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না শেকৃবি উপাচার্য।

রবিবার (১৯ অক্টোবর) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হলে ঘটনাটি সামনে আসে। অধ্যাপক কবিরুল বাশার অভিযোগ করেন, ২০১৪ সালে তার প্রকাশিত গবেষণাপত্রটি হুবহু নকল করে ২০১৭ সালে প্রকাশ করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক মো. আব্দুল লতিফ। 

এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৭ সালে শেকৃবির কীট বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফের আন্ডারে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন মো. গোলাম শরওয়ার। যিনি বর্তমানে জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে (নিপসম) কর্মরত। পরে গোলাম শরওয়ার একটি জার্নালে গবেষণাপত্রটি প্রকাশ করেন। ওই প্রবন্ধে শেকৃবি উপাচার্যের নাম সহলেখক হিসেবে সংযুক্ত থাকলেও তার কাছ থেকে কোনো ধরনের অনুমতি নেওয়া হয়নি। এমনকি প্রকাশের সময় সংশ্লিষ্ট জার্নালের পক্ষ থেকেও অধ্যাপক লতিফের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। গবেষণাপত্রটি ২০১৪ সালে প্রকাশিত আরেকটি প্রবন্ধের সঙ্গে মিল থাকায় বিষয়টি এখন সামনে আসে। 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার দাবি করেন, তার ২০১৪ সালের প্রকাশিত প্রবন্ধটির সঙ্গে এই প্রবন্ধের ৯৮ শতাংশ মিল রয়েছে। এ ঘটনায় তিনি মেধাস্বত্ব চৌর্যবৃত্তির (প্লেজিয়ারিজম) অভিযোগ এনে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। 

এ বিষয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২০১৭ সালে ড. শরওয়ার আমার তত্ত্বাবধানে পিএইচডি সম্পন্ন করে। পরবর্তীতে তিনি নিজে প্রধান যোগাযোগকারী লেখক ও আমাকে সহলেখক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে তা জার্নালে প্রকাশ করে। সম্পূর্ণ কাজটি করা হয়েছে আমাকে না জানিয়ে। বিষয়টি আমি মিডিয়ার মাধ্যমে এই প্রথম জানলাম। এনিয়ে ড. শরওয়ারের সঙ্গে কথা হয়েছে সে আমার কাছে দুঃখ প্রকাশ করলো, আমি নিজেও এ ঘটনায় অত্যন্ত বিব্রত। প্রস্তুতি নিচ্ছি আইনের মাধ্যমেই আমি বিষয়টির জবাব দিব।

এ ব্যাপারে জানতে ড. মোহাম্মদ শরওয়ারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছি পরে কথা বলবো বলে জানান, পরবর্তীতে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত