ইরান, রাশিয়া ও চীন যৌথভাবে জাতিসংঘকে জানিয়েছে যে ২০১৫ সালের তেহরান পরমাণু চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে।
তারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অধীনে ইরানের পরমাণু ইস্যু বিবেচনা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও নিরাপত্তা পরিষদের উদ্দেশ্যে পাঠানো এক চিঠিতে তিন দেশ উল্লেখ করেছে, রেজুলেশন ২২৩১–এর আওতায় থাকা সব ধারা ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর থেকে কার্যকারিতা হারিয়েছে।
এই রেজুলেশনই ছিল যৌথ ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা (JCPOA)–এর অনুমোদনকারী নথি, যার মেয়াদ ছিল ১০ বছর।
চিঠিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির (E3) পক্ষ থেকে তথাকথিত ‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়া চালুর প্রচেষ্টা আইনগত ও প্রক্রিয়াগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ। তারা নিজেদেরই JCPOA ও রেজুলেশন ২২৩১-এর অঙ্গীকার পূরণে ব্যর্থ হওয়ায়, এখন এই ধারাগুলোর দাবি তোলার বৈধতা তাদের নেই।
তেহরান, মস্কো ও বেইজিংয়ের মতে, রেজুলেশন ২২৩১-এর সমাপ্তি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ইরান পরমাণু ইস্যু সংক্রান্ত বিবেচনার অবসান ঘটায় এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতির বিশ্বাসযোগ্যতা আরও জোরদার করে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সব দেশকে একতরফা নিষেধাজ্ঞা, হুমকি বা উত্তেজনা বাড়াতে পারে এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধান খোঁজার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, এই রেজুলেশনের মেয়াদ শেষ হওয়া মূল চুক্তির সময়সূচির মধ্যেই ছিল। মন্ত্রণালয়ের ভাষায়, “আজকের তারিখ থেকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত সব বিধিনিষেধ, শর্ত ও প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত।”
এই ঘোষণা আসে এমন সময়ে, যখন কয়েক সপ্তাহ আগে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি (E3) ২৮ আগস্ট JCPOA–এর ‘স্ন্যাপব্যাক’ ব্যবস্থা সক্রিয় করার ঘোষণা দেয়। তারা অভিযোগ করে, তেহরান চুক্তির অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে—যদিও যুক্তরাষ্ট্র ২০১৮ সালেই এই চুক্তি থেকে সরে গিয়েছিল।
৪ হাজার এএসআই নিয়োগ দেবে সরকার, প্রজ্ঞাপন জারি