নোয়াখালীতে ঋণের দেখিয়ে নামে-বেনামে ব্যাংক লোন করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এক ব্যাংক ম্যানেজার। আত্মসাৎকৃত অর্থ নিয়ে বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সেনবাগ ও নোয়াখালী শাখায় এ ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রাহকদের ঋণের নামে ১০ কোটির বেশি টাকা হাতিয়ে পালিয়ে গেছেন আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের ম্যানেজার আলমগীর হোসেন। ব্যাংকটির নোয়াখালী ও সেনবাগ শাখার প্রায় দুই শতাধিক গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে এই অর্থ আত্মসাৎ করেন তিনি। বিষয়টি জানাজানি হলে ব্যাংকটির হেড অফিস থেকে অডিট টিম এসে গত সোমবার এর সত্যতা পায়। ব্যাংকের নথি যাচাই করে দেখা যায়, ঋণ নেওয়া গ্রাহকদের অধিকাংশের বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। কারও এনআইডি কার্ড ভুল আবার কারও মোবাইল নম্বর ভিন্ন। আবার পূর্বে ঋণ নেওয়া গ্রাহকদের অনেকের কাগজপত্র ব্যবহার করেও হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে টাকা, যার কিছুই জানেন না সেসব গ্রাহক।
ব্যাংকের খাতায় ৩ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া সদর উপজেলার মধ্যম করিমপুরের মো. আবদুল জলিল বলেন, আমার নামে নাকি ৩ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে।
অথচ আমি এর কিছুই জানি না। ব্যাংক থেকে যখন আমাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে বিষয়টি শুনে আমি রীতিমতো অবাক হয়েছি।
আবদুল্লাহ আল মাইন নামে অন্য এক গ্রাহকের নামে ৩ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া হলেও তার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এই নামের কোনো গ্রাহকের পরিচয় দিতে পারেনি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। উপজেলা আনসার ও ভিডিপির প্রশিক্ষক নিমাই চন্দ্র সরকারের নামে সাড়ে ৯ লাখ টাকা ঋণ উত্তোলন দেখানো হলেও এর কিছুই জানেন না তিনি।
সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের মো. জয়নুল আবেদীন নামে অন্য এক গ্রাহকের নামে ৩ লাখ টাকা ঋণ দেখানো হলেও তিনিও বিষয়টি জানেন না বলে জানান। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন রয়েছেন খোদ ব্যাংকের কর্মকর্তারাই। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এর সুরাহা চান তারাও। আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক উত্তম কুমার সিংহ জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর সবগুলো শাখা যখন অভ্যন্তরীণ অডিট হয় তখনই বিষয়গুলো ধরা পড়ে। তার পরপরই বিষয়গুলো তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান। কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো অডিট করার জন্য দুই সদস্যের একটি দল ব্যাংকে পাঠান। তারা অডিট করতে এসে এর সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে। এখনো অডিট কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হলে সোমবার বিকেলে ব্যাংকটিতে অভিযান চালায় দুদক। দুদকের অভিযানেও ঋণের নামে অর্থ আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ মিলে। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করবেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশন পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে বলে জানান দুদকের সরকারি পরিচালক আবদুল্লাহ আল রোমান।
