লুটপাটতন্ত্র ও সংস্কারবিরোধী জোট ভাঙতে হবে

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:৪৯ এএম

বিগত সময়ে দেশে সংস্কারবিরোধী ও লুটপাটের যে জোট তৈরি হয়েছিল, সেটি ভাঙার তাগিদ দিয়েছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ও এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে এবং দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সংস্কার অপরিহার্য। সংস্কারবিরোধী ও লুটপাটের যে জোট তৈরি হয়েছিল, সেটি ভাঙতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি রাজনীতিবিদরা বিষয়টি উপলব্ধি করবেন এবং নির্বাচনের ইশতেহারে তা তুলে ধরবেন। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার একা সব করতে পারবে না, আগামী দিনের সরকারকেও এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট নগরের একটি হোটেলের হলরুমে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের প্রাক-নির্বাচনী উদ্যোগ হিসেবে আয়োজিত আঞ্চলিক পরামর্শ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, বিভিন্ন পেশাজীবী, শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘অতীতে রাজনীতিবিদ, আমলা আর ব্যবসায়ী মিলে ত্রিজোট গড়ে দেশে লুটপাটতন্ত্র কায়েম করেছিল। গণতন্ত্রহীনতা আড়াল করতে তারা দৃশ্যমান উন্নয়নের কথা বলত। বড় প্রকল্প করে বড় দুর্নীতি করেছে। দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছে। এ অবস্থায় গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা সবাই উপলব্ধি করেন।’ নাগরিক প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে নাগরিক ইশতেহার তৈরির জন্য সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মত নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে ড. দেবপ্রিয় বলেন, ‘আমলাতন্ত্রের কারণে শ্বেতপত্র ও বিভিন্ন টাস্কফোর্স রিপোর্ট বেশিদূর এগিয়ে নেওয়া যায়নি। এটি পরিতাপের বিষয়।’ তিনি বলেন, ‘সংস্কারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে প্রধান উপদেষ্টার স্বপ্ন ও আকাক্সক্ষা তার সহযোগী ও আমলাতন্ত্র এগিয়ে নিতে পারেনি। ফলে প্রধান উপদেষ্টা যে আগ্রহ নিয়ে অর্থনীতির শে^তপত্র প্রণয়ন, টাস্কফোর্স গঠনসহ বিভিন্ন সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তা আশানুরূপ গতি পায়নি।’

ড. দেবপ্রিয় বলেন, ‘অতীতে দৃশ্যমান উন্নয়নের নামে স্কুল-কলেজে শুধু ভবন হয়েছে। শিক্ষার মান বাড়েনি। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য যথাযথ সুবিধা নিশ্চিত করা যায়নি। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত না খেয়ে থাকে, তাদের সবার জন্য দুপুরের খাবার ব্যবস্থা করতে পারেনি সরকার। অথচ আমাদের সেই সক্ষমতা আছে। আগামী নির্বাচনে যে সরকার আসবে তারা যেন সব শিক্ষার্থীর দুপুরের খাবার নিশ্চিত করে।’

তিনি বলেন, “‘দেশে চামচা পুঁজিবাদী’ অর্থনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এ পুঁজিবাদে চামচারা দেশে লুটপাট ও চোরতন্ত্র কায়েম করেছিল। রাষ্ট্রের পুরো কাঠামোকে তারা এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছে। তারা সংস্কারবিরোধী জোট। তাদের এ জোট অবশ্যই ভাঙতে হবে।”

ড. দেবপ্রিয় বলেন, ‘সংস্কার প্রণয়ন করা যত সহজ, বাস্তবায়ন তত সহজ নয়। আগামী দিনে যারা দেশ পরিচালনা করবেন, তাদের এ ব্যাপারে আগ্রহী ও আন্তরিক থাকতে হবে। অন্যথায় জনতা কিন্তু এখন জেগে গেছে, তাদের শুধু প্রতিশ্রুতি দিলে হবে না, তা অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে।’ এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাম্প্রতিক উপলব্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনেকের সঙ্গে কথা হয়, যারা আগামীতে ক্ষমতায় যাওয়ার মতো অবস্থায় আছেন, তারা বলেন নির্বাচন তো হবে, কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে দেশ চালাব কীভাবে, অর্থাৎ নতুন বন্দোবস্ত তারাও টের পাচ্ছেন।’

সভায় অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘অতীতে রাজনৈতিক দলগুলো অনেক আশ^াস দিয়েও তা বাস্তবায়ন করেনি। তবে এখন আমরা পরিবর্তনের আশায় আছি। আমাদের ভবিষ্যৎ অতীতের মতো হবে না। গত বছরের জুলাইয়ে আমরা একটি বড় পরিবর্তনের পথ তৈরি করেছি। আগামীর রাজনীতি ও সরকারকেও সে পথ ধরে চলতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত