ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস ও ক্যাথলিকদের শীর্ষ ধর্মীয় গুরু পোপ লিও ভ্যাটিকানের সিসটিন চ্যাপেলে একসঙ্গে প্রার্থনা করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রানী ক্যামিলাও উপস্থিত ছিলেন প্রার্থনার সময়। এর মধ্য দিয়ে ১৫৩৪ সালে রাজা অষ্টম হেনরি রোমের চার্চের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পর প্রথম কোনো ইংরেজ রাজা ও ক্যাথলিক শীর্ষ নেতার প্রকাশ্যে একত্রে প্রার্থনা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, গত বৃহস্পতিবার ভ্যাটিকান সিটির চ্যাপেলে একসঙ্গে ধ্বনিত হয়েছে লাতিন স্তব ও ইংরেজি প্রার্থন। চ্যাপেলের মণ্ডপের কাছে পোপের বাম পাশে বসেন চার্চ অব ইংল্যান্ডের শীর্ষ তত্ত্বাবধানকারী চার্লস। এদিন প্রার্থনায় নেতৃত্ব দেন ক্যাথলিক পোপ লিও এবং অ্যাংলিকান আর্চবিশপ স্টিফেন কটরেল। গাওয়া হয় দুটি রাজকীয় এবং সিসটিন চ্যাপেলের একটি ধর্মসংগীত।
চার্লস লিওর আগের তিন পোপের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছিলেন। পোপ দ্বিতীয় জন পল ও ষোড়শ বেনেডিক্টও ব্রিটেন সফর করেছিলেন। কিন্তু কোনোবারই দুই চার্চের একসঙ্গে প্রার্থনা হয়নি।
রাজা চার্লস ও রানী ক্যামিলা এখন রাষ্ট্রীয় সফরে ভ্যাটিকানে অবস্থান করছেন। এতেই বোঝা যাচ্ছে সম্পর্কচ্ছেদের প্রায় ৫০০ বছর পর ক্যাথলিক ও অ্যাংলিকান চার্চের মধ্যে সম্পর্ক দূরত্ব ক্রমশ কমছে।
পোপ সপ্তম ক্লেমেন্ত রাজা অষ্টম হেনরি ও ক্যাথেরিন অব অ্যারাগনের বিয়ে বাতিলে অস্বীকৃতি জানানোর পর ১৫৩৪ সালে ক্যাথলিক চার্চ ও চার্চ অব ইংল্যান্ডের বিভক্তি চূড়ান্ত হয়। ছেলে সন্তানের আকাক্সক্ষায় হেনরি নতুন স্ত্রী চাইছিলেন, তার এ চাওয়ায় দ্রুততার সঙ্গে চার্চের বিভক্তি চূড়ান্ত হলেও, আরও কিছু ব্যাপারও প্রভাবকের ভূমিকা পালন করেছে। এর মধ্যে ছিল ব্রিটিশ রাজপরিবারের চার্চের সম্পদ দখল এবং ইংল্যান্ডজুড়ে প্রোটেস্টান ধ্যানধারণা বৃদ্ধি।
হেনরির মেয়ে প্রথম মেরি ও প্রথম এলিজাবেথের আমলে ক্যাথলিক ও প্রোটেস্টানদের পাল্টাপাল্টি আধিপত্যের মধ্যে কেবল ধর্মবিশ্বাসের জন্য হাজার হাজার মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে। এই সময়ে অনেকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে কাঠের খুঁটির মধ্যে বেঁধে আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়ারও ঘটনা ঘটেছে।
