‘আঙুল নড়ছিল না, ব্যাট তুলতে পারছিলাম না’ - বাংলাদেশে তিলক ভার্মার ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৫, ০৩:১৮ পিএম

ভারতের এশিয়া কাপজয়ী ব্যাটার তিলক ভার্মা এখন ক্রিকেটের উঠতি তারকা। অথচ, তিন বছর আগেও তিনি তিনি এমন এক বিরল ও প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন, যার কারণে তার মৃত্যুও হতে পারত। বাংলাদেশ সফরে এসে সেই রোগের কারণে তার প্রাণ সংশয় তৈরি হয়েছিল। এতদিন পর তিলক নিজেই জানালেন সেই ভয়ংকর সময়ের গল্প।

২০২৩ সালের আগস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে ভারতের জার্সিতে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় তিলকের। এর আগে ২০২২ সালে আইপিএলে নিজের প্রথম মৌসুম খেলার পর তিলকের শরীরে র‌্যাবডোমায়োলাইসিস (Rhabdomyolysis) নামের এক জটিল অসুখ ধরা পড়ে। কারও এই রোগ হলে সেটা দ্রুত পেশির কোষ ভেঙে শরীরে বিষক্রিয়া ঘটায়। দ্রুত চিকিৎসা না নিলে মৃত্যুও হতে পারে।

গৌরব কাপুরের ইউটিউব শো ‘ব্রেকফাস্ট অব চ্যাম্পিয়নস’-এ তিলক বলেন, ‘আমি এটা আগে কখনো কাউকে বলিনি। প্রথম আইপিএল মৌসুমের পর আমি শরীরচর্চায় অতিরিক্ত মনোযোগ দিয়েছিলাম। সবার চেয়ে বেশি ফিট হয়ে উঠতে চেয়েছিলাম। বিশ্রাম নিচ্ছিলাম না। প্রতিদিন জিমে যেতাম, এমনকি বিশ্রামের দিনেও। শরীর অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। একসময় পেশিগুলো ভেঙে যেতে শুরু করে, স্নায়ু শক্ত হয়ে যায়।’

২০২২ সালে ভারতের ‘এ’ দলের হয়ে বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন তিলক ভার্মা। সেই সফরের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে “এ” দলের সিরিজের একটা ম্যাচে আমি সেঞ্চুরির পথে ছিলাম। কিন্তু হঠাৎই আমার চোখে পানি আসতে শুরু করে এবং আঙুল নাড়াতে পারছিলাম না। ব্যাটও তুলতে পারছিলাম না। সবকিছু পাথরের মতো নিশ্চল মনে হচ্ছিল। রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে চলে আসতে হয় এবং আঙুল নড়াচড়া করাতে না পারায় গ্লাভস কাটতে হয়েছিল।’

অবস্থা গুরুতর হয়ে গেলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক আকাশ আম্বানি সঙ্গে সঙ্গে বিসিসিআই সচিব জয় শাহকে  বিষয়টি জানিয়ে দেন। এরপর বিসিসিআইয়ের উদ্যোগে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তিলককে। তার ভাষায়, ‘চিকিৎসকরা বলেছিলেন, কয়েক ঘণ্টা দেরি হলে আমি হয়তো আর বাঁচতাম না। আমার মা তখন পাশে ছিলেন। ইনজেকশন দেওয়ার সময় সুঁচ ভেঙে যাচ্ছিল। আমার অবস্থা ছিল ভয়ানক!’

তিলক মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে নিয়মিত খেলেন এবং আইপিএল দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেই তিনি জাতীয় দলে জায়গা করে নেন। এখন পর্যন্ত তিনি খেলেছেন ৪টি ওয়ানডে ও ৩২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। তিলক বলেন, ‘আজ আমি বেঁচে আছি কেবল সময়মতো চিকিৎসা পাওয়ার জন্য। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও আকাশ আম্বানিকে ধন্যবাদ জানাই। এই ঘটনার পর বুঝেছি, শরীরকে যত্নে রাখা খেলোয়াড়ের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।’

র‌্যাবডোমায়োলাইসিস কী?

র‌্যাবডোমায়োলাইসিস এমন একটি শারীরিক জটিলতা, যেখানে অতিরিক্ত ব্যায়াম বা পেশির আঘাতের কারণে পেশি টিস্যু দ্রুত ভেঙে যায় এবং এর রাসায়নিক উপাদান রক্তে মিশে কিডনি ও হৃদপিণ্ডে মারাত্মক ক্ষতি করে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে মৃত্যু ঝুঁকি থাকে অত্যন্ত বেশি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত