সমাবেশে সাইফুল হক

গণতান্ত্রিক উত্তরণে কারও হঠকারিতার কোনো অবকাশ নেই

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৫৪ এএম

দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে কারও হঠকারিতার কোনো অবকাশ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেন, বিচার ও সংস্কারের ধারায় আগামী ফেব্রুয়ারিতে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার পথকে প্রশস্ত করতে হবে। গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের সব রাজনৈতিক দল ও অংশীজনকে এই লক্ষ্যে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। গতকাল শুক্রবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ৮ দফা দাবিতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ‘ঢাকা সমাবেশে’ তিনি এ কথা বলেন।

সাইফুল হক বলেন, দুঃখজনক হচ্ছে আমাদের সমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকার গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য উপলব্ধিতে নিতে পারেনি; যে কারণে গত ১৪ মাসে বৈষম্যহীন মানবিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিপুল সম্ভাবনা বিনষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের পর সরকারের একাংশ নিজেরা যেমন লোভে পড়েছে, তেমনি গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের মধ্যেও তারা লোভ আর ক্ষমতালিপ্সা জাগিয়ে তুলেছে। প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার অভাবে তারা রাজনৈতিক দল ও জনগণের নজিরবিহীন সমর্থনকে কাজে লাগাতে পারেনি, বরং এই সমর্থনকে তারা দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করে এসেছে।

তিনি বলেন, সরকারের অকার্যকারিতায় সামাজিক নৈরাজ্যের বিস্তার ঘটছে। গত ১৪ মাসেও আমরা প্রতিবিপ্লব-প্রতিঅভ্যুত্থানের আশঙ্কা থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি। সরকারের অদূরদর্শিতায় গণঅভ্যুত্থানবিরোধী নানা অপশক্তির তৎপরতাও বাড়ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা রাজপথ বা এলাকা দখলের সহিংস প্রতিযোগিতায় পর্যবসিত হলে রাজনৈতিক নৈরাজ্য বৃদ্ধি পাবে এবং গণঅভ্যুত্থানের অর্জন পুরোপুরি  নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচন, গণভোট ও জুলাই সনদের ভিত্তিতে দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের অনেকটা নির্ভর করছে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর। এ কারণে একদিকে সরকারকে যেমন যাবতীয় পক্ষপাতমূলক ভূমিকা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, অন্যদিকে সবাইকে আস্থায় নিয়ে অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানে  দৃঢ়চিত্ত ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। ফেব্রুয়ারির সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনই কেবল এই সরকারকে মুক্তি দিতে পারে।

সমাবেশে পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী বলেন, গত ১৪ মাসে দারিদ্র্য, বেকারত্ব, চাকরিচ্যুতি ও না খাওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়েছে, মানুষের প্রকৃত আয় কমে গেছে। বাজারের আগুনে মানুষ দিশেহারা। এই সময়কালে নারীবিদ্বেষ নতুন চেহারা নিয়েছে।

এর আগে বিকেল ৩টায় সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সমাবেশ শুরু হয়। পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের সভাপতিত্বে ও রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খানের সঞ্চালনায় এই সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য  আবু হাসান টিপু, আনছার আলী দুলাল, মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, মাহমুদ হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাড. মাহবুবুল করিম টিপু, মাহমুদুল হাসান পিপলু, সজীব সরকার রতন, মাসুদুর রহমান মাসুদ, সাইফুল ইসলাম, জুঁই চাকমা, অরবিব্দু বেপারী বিন্দু, শেখ মোহাম্মদ শিমুল, মীর রেজাউল আলম, এমডি ফিরোজ, কবি জামাল সিকদার প্রমুখ।

সমাবেশের পর পার্টির নেতাকর্মীদের গণমিছিল হাইকোর্ট, তোপখানা রোড, দৈনিক বাংলা, নয়া পল্টন, বিজয়নগর হয়ে সেগুনবাগিচায় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত