আসিয়ান সম্মেলন

পাঁচ দিনের এশিয়া সফরে মালয়েশিয়ায় ট্রাম্প

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৫০ এএম

কুয়ালালামপুরে হতে যাওয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ান নেশনস (আসিয়ান) সম্মেলনে যোগ দিতে মালয়েশিয়ায় যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ রবিবার থেকে শুরু হয়ে আগামী মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) পর্যন্ত চলবে এ সম্মেলন; যেখানে ট্রাম্পসহ অন্তত ৩০টি দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা ও প্রতিনিধিদল উপস্থিত থাকবেন। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর এটি হতে যাচ্ছে এশিয়ায় ট্রাম্পের দীর্ঘতম সফর। পঁাঁচদিনের সফরের প্রথম পর্বে মালয়েশিয়ার পর জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া যাবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। এমন সময়ে ট্রাম্প এই সফর করছেন যখন তার দেওয়া আগ্রাসী বাণিজ্য শুল্কে টালমাটাল এশিয়ার অর্থনীতি। এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, গতকাল শনিবার কুয়ালালামপুরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ অর্থনৈতিক কর্মকর্তারা আলোচনায় বসেন, যা আসিয়ান সম্মেলনেরই অংশ। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শতভাগ শুল্ক আরোপের হুমকি এবং বেইজিংয়ের বিরল ধাতু ও চুম্বক রপ্তানিতে নতুন নিয়ন্ত্রণ আরোপের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে।

এই বৈঠকের লক্ষ্য হচ্ছে আগামী বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কোঅপারেশন (অ্যাপেক) সম্মেলনে ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ভিত্তি তৈরি করা। সেই বৈঠকে দুই দেশ বাণিজ্য শুল্ক, প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ এবং যুক্তরাষ্ট্রে চীনের কৃষিপণ্য, বিশেষ করে সয়াবিন ক্রয় নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। শুক্রবার হোয়াইট হাউজ ছাড়ার আগে ট্রাম্প আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন যে চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার বৈঠকটি ভালো হবে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রেসিডেন্ট শি’র সঙ্গে আমাদের অনেক কিছু আলোচনা করার আছে এবং আমাদের সঙ্গেও তার অনেক কিছু আলোচনা করার আছে। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে শি’র সঙ্গে যে বৈঠক করতে যাচ্ছেন, সেটি হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর চীনের নেতার সঙ্গে ট্রাম্পের প্রথম বৈঠক।

যদিও ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, যদি কোনো সমঝোতা বা চুক্তি না হয়, তবে ১ নভেম্বর থেকে চীনা পণ্যের ওপর মোট ১৫৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। বাণিজ্যের পাশাপাশি বৈঠকে তাইওয়ান, ইউক্রেন যুদ্ধ ও রাশিয়ার ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হবে। ট্রাম্প আরও জানান, হংকংয়ে আটক গণতন্ত্রপন্থি সংবাদমাধ্যম অ্যাপল ডেইলির প্রতিষ্ঠাতা জিমি লাইয়ের মুক্তির বিষয়টিও তিনি আলোচনায় তুলবেন।

এদিকে, অ্যাপেক সম্মেলন ঘিরে দক্ষিণ কোরিয়ায় ইতিমধ্যেই হাজারো মানুষ ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে নেমেছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি ও দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর বিনিয়োগের চাপের প্রতিবাদ জানিয়েছে। ২০১৮,২০১৯ ও ২০২০ সালে আসিয়ান সম্মেলন এড়িয়ে যাওয়া ট্রাম্প এবার দ্বিতীয়বারের মতো এতে অংশ নিতে যাচ্ছেন। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠেয় এবারের সম্মেলনে জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচি, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসাও উপস্থিত থাকবেন। জানা গেছে, রবিবার ট্রাম্প মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তিনি থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতায় কাজ করেছেন। তাদের বৈঠকে সীমান্ত সংঘাত সংক্রান্ত একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে বলে জানা গেছে। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে যদি দেশগুলো যুদ্ধ বন্ধ না করে তবে তাদের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত করা হবে। ট্রাম্প মালয়েশিয়ার নেতৃত্বের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমি মালয়েশিয়ার নেতাকে বলেছি আপনি ভালো মানুষ, আপনার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। রবিবার ট্রাম্পের সঙ্গে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভারও বৈঠক হতে পারে। লুলা যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ৪০ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার চান। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানগুলোর ব্যাপরেও সমালোচনা করেছেন লুলা, যেগুলো দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলে ‘মাদকবিরোধী লড়াই’-এর নামে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেছেন, এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে মালয়েশিয়ায় ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করবেন। যদিও হোয়াইট হাউজ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকটির বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত