রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এনামুল হকের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। রবিবার বিকাল ৪টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের ফটকে অবস্থান নিয়ে চারজন আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন শুরু করেন।
পরে বিকালে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনের ফটকে রাকসু ও হল সংসদের শপথ অনুষ্ঠানে স্থলে অবস্থান নেয় তারা।
আমরণ অনশনের ঘোষণা দিয়ে বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাইসুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তিন দফা দাবিতে আন্দোলন নেমেছিলাম। তবে আমাদের দাবি মেনে না নেওয়ায় এবং কোনো অগ্রগতি না পাওয়ায় বিভাগের সভাপতির পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করেছিলাম। প্রশাসনের সঙ্গে এ বিষয়ে আমরা আলোচনায় বসেছিলাম কিন্তু তারা ওই সভাপতিকেই পদে রাখতে চায়। তবে আমাদের দাবি, আমাদের নিজ বিভাগ থেকেই সভাপতি নিয়োগ দিতে হবে। যতক্ষণ না পর্যন্ত তাকে অপসারণ করে নতুন সভাপতি নিয়োগ না দেওয়া হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা প্রশাসন ভবনের সামনে আমরণ অনশনে থাকব।’
প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
পদত্যাগের দাবির বিষয়ে অধ্যাপক এনামুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের তিন দাবির বিষয়েও আমরা শিক্ষকেরা একমত পোষণ করেছি এবং কিছু ক্ষেত্রে আমরা পদক্ষেপও নিয়েছি। তবে কিছু দাবি আছে যেগুলো আমাদের আওতাভুক্ত নয়। এখন শিক্ষার্থীরা কেন তার পদত্যাগ চাচ্ছেন, সেটি বুঝতে পারছি না। ছাত্ররা নিজে থেকে এমন করছে বলে মনে হয় না। কোনো গোষ্ঠী এর পেছনে ইন্ধন দিচ্ছে বলে আমার মনে হয়।’
জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছি। তাদের দাবিগুলো নিয়েও আমাদের সিদ্ধান্ত জানিয়েছি। তবে তারা এখন যে দাবি জানাচ্ছে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক এনামুল হককে গত জুলাইয়ে চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২৩ সালের শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে শুধু চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরাই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাবেন। কিন্তু বর্তমান চেয়ারম্যান নিয়োগ পাবার পর নতুন বিজ্ঞপ্তিতে তার নিজ বিভাগ মনোবিজ্ঞানকেও সংযুক্ত করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
গত মঙ্গলবার বৈষম্যমূলক শিক্ষক নিয়োগ সংশোধনসহ তিন দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টা সময় বেধে দিয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি মেনে না নেওয়ায় গত বুধবার অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা দেন তারা।
এর অংশ হিসেবে তারা রক্ত ব্যানার লেখা, সংবাদ সম্মেলন, মানবন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে বৃহস্পতিবার তারা তিন দফা দাবি থেকে সরে এসে বিভাগের সভাপতির পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলন করেন।
যে তিন দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছিল তা হলো বৈষম্যমূলক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সংশোধন; ইন্টার্নশিপ ভাতা চালু এবং বিসিএস পরীক্ষায় চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানকে টেকনিক্যাল ক্যাডার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা।
