রাবিতে শিক্ষকের পদত্যাগ দাবিতে অনশনে ৬ শিক্ষার্থী

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৫, ১২:২৮ এএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এনামুল হকের পদত্যাগ দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছেন ছয় শিক্ষার্থী। গত রবিবার  বেলা ৩টা থেকে গতকাল সোমবার দুপুর পর্যন্ত টানা অনশনরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তারা। এর মধ্যে দুই শিক্ষার্থীকে স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিভাগের অর্ধশত শিক্ষার্থী এসে প্রশাসন ভবনের ফটকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

অনশনরত শিক্ষার্থীরা হলেন চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুমন আলী ম-ল, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ইলমুল মুনতাহা ও আয়েশা খাতুন হুমায়রা, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ইমন হোসেন ও মো. কাউছার এবং ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সাদিক হাসান। এদের মধ্যে সাদিক ও ইমন গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় স্যালাইন দেওয়া হয়েছে।

আন্দোলনরত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম সাদমান বলেন, ‘আমরা তিন দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার আন্দোলন করে যাচ্ছি। বিষয়টি নিয়ে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ করলেও তিনি গুরুত্ব দেননি। অন্য বিভাগ থেকে আসায় তার দায়িত্ববোধের জায়গাটা নাই। তাই আমরা সভাপতির পদত্যাগের একদফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে উপাচার্য মহোদয় বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে শিগগিরই বিষয়টির সুরাহা হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক এনামুল হক গত জুলাইয়ে চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২৩ সালের শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে শুধু চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরাই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাবেন। কিন্তু বর্তমান চেয়ারম্যান নিয়োগ পাওয়ার পর নতুন বিজ্ঞপ্তিতে তার নিজ বিভাগ মনোবিজ্ঞানকেও সংযুক্ত করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। গত মঙ্গলবার বৈষম্যমূলক শিক্ষক নিয়োগ সংশোধনসহ তিন দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টা সময় বেধে দিয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি মেনে না নেওয়ায় গত বুধবার অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা দেন তারা। এর অংশ হিসেবে তারা সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে গত বৃহস্পতিবার তারা তিন দফা দাবি থেকে সরে এসে বিভাগের সভাপতির পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত