ক্ষমতায় গেলে নারীদের কর্মঘণ্টা হবে ৫ ঘণ্টা

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৪১ এএম

ক্ষমতায় গেলে নারীদের কর্মঘণ্টা ৮ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ৫ ঘণ্টা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। পাশাপাশি মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারও অব্যাহত রাখা হবে। তিনি বলেছেন, ‘কোনো নিরপরাধ মানুষ শাস্তি পাবেন না।’ গত রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকানদের আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

নিউ ইয়র্ক সিটির এস্টোরিয়া ওয়ার্ল্ড মেনারে ‘কোয়ালিশন অব বাংলাদেশি আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন’-এর আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘একজন মা সন্তান জন্ম দিচ্ছেন, লালন-পালন করছেন এবং ক্ষেত্রবিশেষে পেশাজীবী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। পুরুষ ৮ ঘণ্টা কাজ করলে নারীরও সমান সময় দেওয়া কি ন্যায্য? আমরা ক্ষমতায় এলে তাদের কর্মঘণ্টা ৫ ঘণ্টা করব, যাতে মা হিসেবে তারা সন্তানের প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে পারেন।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা যদি সুযোগ পাই, মায়েদের বাড়তি আরেকটু সম্মান করব, সেটা হবে তাদের প্রতি ইনসাফ। একজন মা তার সন্তানকে জন্ম দিচ্ছেন, লালন-পালন করছেন; আবার ক্ষেত্র বিশেষে তিনি একজন পেশাজীবী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। আমারও ৮ ঘণ্টা, তারও ৮ ঘণ্টা, এটা কি অবিচার নয়? আমরা ক্ষমতায় গেলে ইনশা আল্লাহ তাদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেব।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যারা মানুষ হত্যা করেছে, তাদের অবশ্যই বিচার হবে। আমরা চাই ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক, কোনো নিরপরাধ মানুষ শাস্তি পাবেন না। যদি আল্লাহ জাতির এ আমানত আমাদের হাতে দেন, আমরা ইনশা আল্লাহ তা করব।’

প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, শুধু রেমিট্যান্স নয়, দেশের উন্নয়নে প্রবাসী মেধাবীদেরও ফিরিয়ে আনা হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের তরুণরা বিভিন্ন দেশে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করছে। দেশের উন্নয়নে তারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। আমরা তাদের অন্তত একটি অংশ বাংলাদেশে চাই।’

প্রবাসীদের ভোটাধিকারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যারা যেতে পারবেন না, এখান থেকে দোয়া করবেন কিন্তু ভোট মিস করবেন না। প্রবাসীদের ভোট দেশের উন্নয়নে শক্তি হিসেবে কাজে লাগবে।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই জুলাই হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যমান রায় দেখতে চায় বাংলাদেশের মানুষ। পরবর্তী সরকার যেই হোক, তাদের অবশ্যই এই রায়গুলোর ন্যায়ভিত্তিক সমাপ্তি টানতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় গেলে দেশের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হবে। দেশে যারা উদ্যোক্তা হতে চান, তাদের সুযোগ দিতে হবে। উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত