হিলিতে আমনে কারেন্ট ও মাজরা পোকার আক্রমণ

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৫, ০৩:১১ পিএম

ধান পাকার কাছাকাছি সময়ে এসে দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে আমনে দেখা দিয়েছে কারেন্ট ও মাজরা পোকার আক্রমণ। পোকার হাত থেকে বাঁচতে ধান গাছের গোড়া কেটে, কীটনাশক ছিটিয়ে কোনো সুফল না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

পাশাপাশি ইঁদুরের উপদ্রবের কারণে ফলন বিপর্যয়সহ খরচ তোলা নিয়ে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। তবে কৃষকদের প্রতিনিয়ত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

সরেজমিনে ঘুরে দেখে গেছে, আমন ক্ষেতে কারেন্ট, মাজরাসহ বিভিন্ন ধরনের পোকার আক্রমণ করেছে। এর কারণে  ধান গাছের পাতা শুকিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে ইঁদুরের আক্রমন তো রয়েছে। উপদ্রব থেকে বাঁচতে বিঘা প্রতি ৩ থেকে ৪ বার বিভিন্ন প্রকার কীটনাশক প্রয়োগ করতে হচ্ছে কৃষকদের। এতে করে তাদের বিঘা প্রতি ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। ফলন বিপর্যয়ের সঙ্গে ধানের কাঙ্খিত দাম না পেলে উৎপাদন খরচ না উঠার আশঙ্কাও রয়েছে।

রোগা আক্রান্ত ক্ষেতে কীটনাশক ছিটাচ্ছেন কৃষক। ছবি: দেশ রূপান্তর

হিলির বোয়ালদাড় গ্রামের কৃষক আজগর আলি বলেন, লাভের আশায় এবার ৩ বিঘা জমিতে চিকন জাতের ধান আবাদ করেছি। আবহাওয়া ভালো থাকায় ধানের গাছ বেশ ভালোই হয়েছিল দুয়েক দিনের মধ্যে ধানের শীষ বের হবে এমন সময়ে ধানে দেখা দিয়েছে কারেন্ট পোকা ও মাজরা পোকার আক্রমণ। আগে যেখানে এক থেকে দুবার কীটনাশক স্প্রে করলেই পোকা দমন হতো। কিন্তু এবারের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। এখন পর্যন্ত চারবার কীটনাশক স্প্রে করেছি তারপরেও কমার কোন লক্ষ্যন দেখছি না। কারেন্ট পোকার আক্রমনে ধানের গাছ হলুদ বর্ণ হয়ে শুকে যাচ্ছে। আবার কিছু পোকা গাছের গোড়াতে কেটে দেওয়ায় পুরো গাছ শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। এতে করে এবারে তো উৎপাদন খরচ বেশি হচ্ছে, তার ওপর যদি ধানের দাম না পাই তাহলে লাভ তো দূরে থাক লোকশান গুনতে হবে আমাদের।

একই গ্রামের কৃষক আফজাল হোসেন বলেন, বেশ কয়েকবার করে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হচ্ছে। এতে করে গতবারের তুলনায় এবার ধানের উৎপাদন খরচ বেশি হচ্ছে। এতে করে এবারে ধানের ফলন খুব একটা ভালো হবে না এরপর যদি ধানের দাম ভালো না পাই তাহলে উৎপাদন খরচ উঠানো দুষ্কর হয়ে দাঁড়াবে।

পোকা আক্রান্ত ধান গাছ হাতে এক কৃষক। ছবি: দেশ রূপান্তর

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম বলেন,চলতি মৌসুমে উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার অধিক ৮ হাজার ১১৮ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। যা গত বছরের থেকে ১ হেক্টর বেশি। অধিকাংশ জমির ধানের শীষ বের হয়ে যাওয়ায় পোকার আক্রমণে তেমন একটা ক্ষতি হবে না। সমস্যা সমাধানে কৃষকদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত মাঠের সার্বিক পর্যবেক্ষন আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে।  এমন পরিস্থিতি বিরাজ করলে কৃষকরা তাদের কাঙ্খিত ফলন পাবে বলে আশা করছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত