মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর জন্য যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছে, তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা)। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে এসব শর্তকে ‘অযৌক্তিক’, ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ও ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ উল্লেখ করে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলকে স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা।
স্মারকলিপিতে সই করেছেন বায়রার সাবেক সভাপতি এম এইচ সেলিম, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রিয়াজ-উল-ইসলাম, যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম, আকবর হোসেন মঞ্জু, নির্বাহী সদস্য হক জহিরুল জো, কামাল উদ্দিন, ক্রীড়া, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক সচিব রেহেনা পারভীন।
গত বুধবার প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান জানায়, মালয়েশিয়ার দেওয়া ১০টি শর্ত পূরণকারী দেশের সব রিক্রুটিং এজেন্সি যাতে কর্মী পাঠানোর জন্য তালিকাভুক্ত হয়, সেই অনুরোধ জানাবে বাংলাদেশ। এজন্য শর্ত পূরণে সক্ষম সব এজেন্সিকে আগামী ৭ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে হবে।
এসব শর্তের মধ্যে ১০ হাজার বর্গফুটের অফিস, পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা, পাঁচ বছরে তিন হাজার কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা, তিন বছর ধরে ব্যবসা পরিচালনা করা, পাঁচ নিয়োগকর্তার প্রশংসাপত্র, নিজের নামে প্রশিক্ষণকেন্দ্র থাকার মতো বিষয় রয়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ‘বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত প্রতিটি শর্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ষড়যন্ত্রমূলক, অবাস্তব ও অগ্রহণযোগ্য।’
বায়রার নেতারা বলছেন, ‘মালয়েশিয়ায় আমরা ১৯৯১ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত কোনো শর্ত ছাড়া বিভিন্ন সেক্টরে লাখ লাখ কর্মী পাঠিয়েছি। ২০১৭ সালে শুরু হয় অবৈধ সিন্ডিকেট, বৈষম্য, শোষণ ও হাজার হাজার কোটি টাকার লুটপাট। বাংলাদেশের প্রতিটি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ সরকারের সব শর্ত পূরণ করেই লাইসেন্স পেয়েছে। সারা বিশ্বে আমরা কর্মী পাঠিয়ে আসছি। কোনো দেশই এ ধরনের শর্ত কখনো আরোপ করেনি।’
স্মারকলিপিতে বলা হয়, কোভিড মহামারী, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মালয়েশিয়া শ্রমবাজারের সিন্ডিকেট, অসংখ্য এজেন্সির সৌদি দূতাবাসের তালিকাভুক্তি না থাকা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, ইরাক, লিবিয়া, ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানো বন্ধ থাকার কারণে অধিকাংশ রিক্রুটিং এজেন্সি পাঁচ-ছয় বছর কাক্সিক্ষত পরিমাণ শ্রমিক পাঠাতে পারেনি।
শর্ত অনুযায়ী ৩ বছর লাগাতার ১০ হাজার বর্গফুটের অফিস পরিচালনা করা, সম্মিলিতভাবে বায়রা ট্রেনিং সেন্টার থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত ট্রেনিং সেন্টারের শর্ত অবাস্তব ও অত্যন্ত ব্যয়বহুল; যা অভিবাসন ব্যয় বৃদ্ধির হাতিয়ার।
আরও বলা হয়, মালয়েশিয়ার সি লাইসেন্সধারীদের ‘একজনেরও’ ১০ হাজার বর্গফুটের অফিস নেই। এমনকি শ্রমিক সরবরাহকারী নেপাল, পাকিস্তান, ভারত, মিয়ানমার, ফিলিপাইনস, ইন্দোনেশিয়াসহ কোনো দেশেই ১০ হাজার বর্গফুটের অফিস পরিচালিত হয় না।
