মাকে লেখা চিঠি ভেসে এলো ১০৯ বছর পর

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:০৯ এএম

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়, ফ্রান্সের যুদ্ধক্ষেত্রে যোগ দিতে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় দুই অস্ট্রেলীয় সেনা দুটি আবেগঘন চিঠি লেখে বোতলে ভরে সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন। এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর দক্ষিণ-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে পাওয়া গেছে সেই বোতল। চিঠিগুলো পেয়ে রীতিমতো হতবাক সৈনিকদের বংশধররা। গত মঙ্গলবার ডেব ব্রাউন নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, চলতি মাসের শুরুর দিকে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার এসপেরেন্সের কাছে প্রত্যন্ত হোয়ার্টন বিচে আবর্জনা পরিষ্কার করার সময় তার পরিবার একটি মোটা কাচের বোতল খুঁজে পায়। নিয়মিত কোয়াড বাইক ভ্রমণে গিয়ে তারা সৈকতের আবর্জনা পরিষ্কার করে। ডেব বলেন, এ বোতলটি যে এখানে আগে দৃশ্যমান ছিল না, সেটি নিশ্চিত। সম্ভবত বোতলটি বালির নিচে চাপা পড়েছিল।

বিবিসির প্রতিবেদন বলা হয়েছে, বোতলের ভেতরে থাকা কাগজের চিঠি ভিজে গেলেও তখনো পাঠযোগ্য ছিল। চিঠিগুলো হাতে পেয়ে ব্রাউন সে দুই সেনাদের পরিবার খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেন। চিঠিগুলোর মধ্যে একটি লিখেছিলেন প্রাইভেট ম্যালকম নেভিল। তার মাকে উদ্দেশ্য করে লেখা চিঠিতে তিনি জানান যে, জাহাজের খাবার ‘সত্যিই ভালো ছিল’ এবং তারা ‘খুব খুশি’ ছিলেন। মর্মান্তিকভাবে, এর কয়েক মাস পরই মাত্র ২৮ বছর বয়সে যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হন তিনি। অন্য সৈনিক, ৩৭ বছর বয়সী প্রাইভেট উইলিয়াম হার্লে যুদ্ধ শেষে বেঁচে ফিরে আসেন নিজ বাড়িতে। হার্লের লেখা চিঠিটি ছিল বোতলটির সম্ভাব্য আবিষ্কারকের উদ্দেশ্যে লেখা। হার্লের চিঠিতে উল্লেখ ছিল, বোতলটি ‘কোথাও গ্রেট অস্ট্রেলিয়ান বাইটে’ ছুড়ে ফেলা হয়েছিল, অর্থাৎ দেশটির দক্ষিণ উপকূলের গ্রেট অস্ট্রেলিয়ান বাইট। বিশেষজ্ঞদের মতে, বোতলটি হোয়ার্টন বিচে আসার আগে মাত্র কয়েক সপ্তাহ পানিতে থাকতে পারে এবং সেখানে এটি ১০০ বছর ধরে বালিতে চাপা পড়ে থাকতে পারে।

ডেব ব্রাউন ম্যালকম নেভিলের উত্তরসূরিদের ঠিকানা খুঁজতে থাকেন। পরে তিনি নেভিলের ভাতিজা হার্বি নেভিলের কাছে সৈকতে পাওয়া চিঠিটি তুলে দেন। এবিসি নিউজকে হার্বি বলেন, এটি তার পরিবারের জন্য অবিশ্বাস্য অনুভূতি। আর উইলিয়াম হার্লের চিঠিটি বুঝিয়ে দেওয়া হয় তার নাতনি অ্যান টার্নারকে। তিনি এ ঘটনাকে অলৌকিক বলে অ্যাখা দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত