খ্যাপ ঠেকাতে আগাম ক্যাম্প!

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৫, ১০:২০ এএম

হাটে হাড়ি ভেঙে দিলেন জাতীয় ফুটবল দলের ম্যানেজার আমের খান। জাতীয় দল, ক্লাব ফুটবলের ফাঁকে দেশের নানা প্রান্তে খ্যাপ খেলার যে আদিম সংস্কৃতি বর্তমান প্রজন্ম বয়ে বেড়াচ্ছেন, সেটা ঠেকাতে জাতীয় দলের আগাম ক্যাম্প ডাকার কথা সরাসরি বলে দিয়েছেন আমের খান। তাতে খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্ব নিয়ে আরেকবার প্রশ্ন উঠেছে।

১৮ নভেম্বর এশিয়ান কাপের বাছাইয়ের ম্যাচে বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে ভারতের। ঘরের মাঠে সেই ম্যাচের প্রস্তুতি স্বরূপ ১৩ নভেম্বর নেপালের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবেন জামাল ভূঁইয়ারা। দুই ম্যাচকে সামনে রেখে এত আগে ক্যাম্প করার কোনো কারণ ছিল না। বিশেষ করে স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরার অনুপস্থিতিতে খেলোয়াড়দের ক্যাম্পে আনারও কোনো বিশেষ কারণ বোঝা যায়নি। কাবরেরা স্পেনে তার স্ত্রী ও সদ্য ভূমিষ্ঠ যমজ সন্তানের পাশে আছেন। আসবেন দিন দুয়েক পর। তাছাড়া জাতীয় দলের ১০-১১ জন খেলোয়াড় এখন বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে আছেন কুয়েতে। তারাও আসবেন দুদিন পর। অথচ হুট করেই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বৃহস্পতিবার ১৪ ফুটবলারকে ডেকে পাঠায় আবাসিক ক্যাম্পে। খেলোয়াড়দের রিপোর্টিংয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ম্যানেজার আমের খান আগাম ক্যাম্পের কারণটা স্পষ্ট করেন।

ফেডারেশন কাপের ম্যাচ ছিল ২৪ অক্টোবর। সেটি খেলার পর ক্লাবগুলো খেলোয়াড়দের ছেড়ে দিয়েছিল লম্বা সময়ের জন্য। সেই সুযোগে অনেকেই বিভিন্ন জেলায় খ্যাপ খেলে বেড়াচ্ছেন। খ্যাপে মেলে আকর্ষণীয় পারিশ্রমিক। গত দুই মৌসুমে ক্লাবগুলো থেকে প্রত্যাশিত বেতন না পাওয়ায় বেআইনি জেনেও পেশাদার ফুটবলারদের মধ্যে খ্যাপ প্রবণতা বেড়েছে। এর বাইরে নন জাতীয় দলে নিয়মিতরাও। তবে বাজে মাঠে অপেশাদার ফুটবলারদের সঙ্গে খেলায় চোট ঝুঁকি অনেক। জাতীয় দলের রাডারে থাকারা যাতে এই ঝুঁকি না নিতে পারেন, নিশ্চিত করতেই এ ক্যাম্প। আমের খান বলেন, ‘ক্যাম্পের বাইরে থাকলে স্বভাবতই সবাই একটু ক্যাজুয়াল থাকে। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন খেলার অনুরোধ আসে। এজন্যই ক্যাম্প শুরুর একটা পরিকল্পনা বাফুফে থেকে নেওয়া হয়। যারা আছে তাদের নিয়ে শুরু হবে। এরপর বসুন্ধরার খেলোয়াড়রা এসে যোগ দেবে। এখন (খেলোয়াড়রা) ছাড়া থাকলে আমাদের একটা সংস্কৃতি আছে, ফুটবলাররা মৌসুমি খেলা বা খ্যাপ খেলায় অংশ নেয়। যে সুযোগ পাবে সেই খেলবে। এসব কিছু বিবেচনায় নিয়ে ক্যাম্পটা শুরু হচ্ছে, যাতে সবাইকে একসঙ্গে এক জায়গায় রাখা যায়।’

সব খেলোয়াড় যোগ দিচ্ছেন না, হেড কোচও আসেননি। তাই এটা অসম্পূর্ণ ক্যাম্প। বৃহস্পতিবার যোগ দিয়েছেন আবাহনীর ছয় ফুটবলার মিতুল মারমা, সৈয়দ শাহ কাজেম কিরমানি, শেখ মোরসালিন, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, আল-আমীন ও শাকিল হোসেন। এর মধ্যে শাহ কাজেম কিরমানি শেষ মুহূর্তে বাদ পড়েছিলেন হংকংগামী দল থেকে। মোহাম্মদ ইব্রাহিম ছিটকে গিয়েছিলেন চোটের কারণে আর শাকিল গত ক্যাম্পে ছিলেন না। মোহামেডান থেকে যোগ দিয়েছেন গোলকিপার সুজন হোসেন, ডিফেন্ডার রহমত মিয়া ও শাকিল আহাদ তপু। বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা ডিফেন্ডার তারেক কাজীও ফিনল্যান্ড থেকে যোগ দিয়েছেন ক্যাম্পে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী জায়ান আহমেদ, ফর্টিস এফসির আব্দুল্লাহ ওমর ও পিডব্লিউডির আরমান ফয়সাল আকাশ যোগ দিয়েছেন।

বসুন্ধরা কিংস থেকে কয়জন এই ক্যাম্পে ডাক পাবেন, সেটা এখনই নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কোচ স্রেফ ১৪ জনের একটা তালিকা দিয়েছেন আপাতত। যেখানে আছেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। ক্যাম্পে এসে জামাল ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য মুখিয়ে থাকার কথা বলেছেন, ‘আমি মনে করি এটা (ভারতের বিপক্ষে) বড় ম্যাচ। বাংলাদেশ-ভারত দ্বৈরথের একটা ইতিহাস আছে। ভারত অনেক বছর পর বাংলাদেশে খেলবে। ভারতের বিপক্ষে সবাই রোমাঞ্চিত থাকবে। শুধু ফুটবল ভক্তরা নন, যারা অতটা ফুটবল অনুসরণ করেন না, তারাও রোমাঞ্চিত থাকবেন। কারণ দলটা ভারত। আমরা বাংলাদেশিরা সবসময় ভারতের বিপক্ষে জিততে চাই।’

১৩ নভেম্বর বাংলাদেশের প্রীতি ম্যাচের প্রতিপক্ষ বদল নিয়েও কথা বলেছেন জামাল, ‘আমি মনে করি আফগানিস্তান ও নেপাল কাছাকাছি শক্তির। খুব বড় ব্যবধান নেই। এটা একটা প্রস্তুতি ম্যাচ, এটা আমাদের জন্য ভালো হবে।’

পেশাদারিত্বের তকমায় হয়ে আসা নড়বড়ে ঘরোয়া ফুটবল, তাই ফুটবলাররাও ভুলে যান পেশাদারিত্বের কথা। ঝুঁকি নেন খ্যাপ খেলার। সেটা ঠেকাতেই আমেরের কথায় আগাম এই ক্যাম্প।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত