শান্তই থাকছেন

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৫, ০৩:৩৩ এএম

বাতাসে ভাসছিল অনেক নাম। প্রকাশ্যে ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন অনেকেই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের পর অভিমান ভরে শান্ত যখন অধিনায়কের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন, সেই শূন্য পদের দিকে চোখ ছিল ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন কুমার দাসেরও। টেস্ট বোলার তকমা পেয়ে যাওয়া তাইজুল ইসলামও বলেছিলেন তিনি অধিনায়ক হতে চান। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা শেষ পর্যন্ত নাজমুল হোসেন শান্তকেই রাজি করিয়েছেন নিজের ছেড়ে যাওয়া জায়গায় ফিরে আসতে।

আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলমান চক্র (২০২৫-২৭) শেষ হওয়া অবধি শান্তকেই টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে পুনরায় দায়িত্ব দিয়েছে বিসিবি।

২০২৩ সালে টেস্ট অধিনায়কত্ব পেয়েছিলেন শান্ত, ১৪ টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে জিতেছেন ৪ টেস্টে, হেরেছেন ৯ টেস্টে আর ড্র একটি। তার সময়ে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো পাকিস্তান সফরে গিয়ে সিরিজ জিতেছিল ২-০ ব্যবধানে। বিসিবি প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন, তাদের আস্থা আছে ২৭ বছর বয়সী শান্তর ওপর, ‘শান্ত তার দায়িত্বে স্থিতধী, প্রতিশ্রুতি আর টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা দেখিয়েছেন। তার নেতৃত্বকালে আমরা দলের ভেতর উন্নতির ছাপ আর বিশ্বাস জন্মাতে দেখেছি। বিসিবি বিশ্বাস করে, শান্তর নেতৃত্বের ধারাটি ক্রমবর্ধমান হলে সেটা আমাদের জন্য ভালো হবে যা আমাদের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চক্রে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’ নতুন করে দায়িত্ব পাওয়ার পর শান্ত জানিয়েছেন, ‘আমি টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে পেরে নিজেকে গভীরভাবে সম্মানিত বোধ করছি, আমার ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখার জন্য আমি বিসিবির কাছে কৃতজ্ঞ। দেশের টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব করাটা আমার কাছে সর্বোচ্চ গর্বের জায়গা। আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে এই দায়িত্বের প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করব। এ রকম একটা দল যেখানে অনেক প্রতিভা আর সম্ভাবনা আছে, সেটার নেতৃত্ব দেওয়াটা খুবই আনন্দের। আমি মনে করি সামনের দিনে একটা ভালো মৌসুম আসতে যাচ্ছে আমাদের জন্য। আমি তাকিয়ে আছি সামনেই আয়ারল্যান্ড সিরিজের দিকে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ দলের একটা ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সময় শুরু হতে যাচ্ছে।’

টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে সবশেষ সিরিজে গলে জোড়া সেঞ্চুরি করার পর শান্ত জানিয়ে দেন কলম্বো টেস্টের পর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা। ২৮ জুন কলম্বো টেস্ট শেষে সংবাদ সম্মেলনে নেতৃত্ব ছাড়ার কথা জানিয়েছিলেন শান্ত, ফিরে পেলেন ১ নভেম্বর। এই সময়ে বাংলাদেশ কোনো টেস্ট না খেলায় মাঝে নেতৃত্বের ব্যাটন হস্তান্তর হয়নি, তাই পদত্যাগের পর নিজের চেয়ারে শান্ত ফের নিজেই বসলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত