পঞ্চদশ সংশোধনী পুরো বাতিল চেয়ে আপিল

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:২৮ এএম

নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বিলুপ্ত করে আনা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের কয়েকটি ধারা বাতিল করে ১০ মাসের বেশি সময় আগে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে রিট মামলার বাদীপক্ষ। তাতে ওই সংশোধনীর পুরোটা বাতিল চাওয়া হয়েছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে গতকাল সোমবার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এ আবেদনটি করেন। হাইকোর্টের ওই রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরার পথ তৈরি হয়।

২০১১ সালের ৩০ জুন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাসের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া এ সংশোধনীতে জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনসংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করাসহ ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল।

সুজনের পক্ষে করা এক রিট আবেদনের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে আনা পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল বলে রায় দেয়। রায়ে হাইকোর্ট সংবিধানের যেকোনো সংশোধনী আনতে ১৪২ অনুচ্ছেদে অনুসৃত গণভোটের বিধান পুনরুজ্জীবিত করে। তবে, রায়ে পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের পুরোটা বাতিল না করে বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে পরবর্তী জাতীয় সংসদ সিদ্ধান্ত নেবে বলে উল্লেখ করে হাইকোর্ট।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা তখন বলেছিলেন, হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার চূড়ান্ত অবস্থান জানা যাবে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মামলা নিয়ে রিভিউ (রায় পুনর্বিবেচনা) রায়ের পর। ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এ রিভিউ আবেদন থেকে উদ্ভূত আপিলের ওপর শুনানি চলছে।

গতকাল আপিলের পর আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাইকোর্টে আমরা পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল চেয়েছিলাম। কিন্তু হাইকোর্ট অংশ বিশেষ বাতিল করলেও পুরোটা বাতিল করেননি। সেই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা আপিল দায়ের করেছি।’ তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ও অন্য উপদেষ্টাদের বিষয়ে ৯৯ ধারায় একটি ব্যতিক্রম ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে করা হয়েছিল। প্রধান উপদেষ্টার রেমুনারেশন কী হবে, সে বিষয়ে ১৪৭ ধারাতে বিধান ছিল। প্রধান উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টা কাদের বোঝাবে সে বিষয়ে ১৫২ ধারায় বিধান করা হয়েছিল। এ ছাড়া প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাদের শপথের ব্যাপারে তৃতীয় শিডিউলে উল্লেখ ছিল। এই জিনিসগুলো ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু হাইকোর্ট ২০ ও ২১ ধারা বাতিল করলেও অন্য ধারাগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়নি। সবকিছু বিবেচনায় এ আপিল করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন এ আইনজীবী।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত