মুন্সীগঞ্জে বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:২৯ এএম

মুন্সীগঞ্জ সদরের চরাঞ্চল মোল্লাকান্দিতে বিএনপির দুই গ্রুপের বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের গুলিতে খুন হয়েছেন তুহিন দেওয়ান (২২) নামে এক কর্মী। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ শটগানের ৯ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। গত রবিবার রাতে সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের বেহেরকান্দি গ্রামের নিজ বাড়ির পাশেই গুলিতে খুন হন বিএনপিকর্মী। তিনি ওই গ্রামের সেলিম দেওয়ানের ছেলে। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জেলা বিএনপির সদস্য আতিক মল্লিক ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অহিদ মোল্লা গ্রুপের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য উজির আলী ও আওলাদ ব্যাপারী গ্রুপের। নিহত ওই বিএনপিকর্মী আতিক-অহিদ গ্রুপের অনুসারী ছিলেন।

নিহত বিএনপিকর্মীর চাচাতো ভাই আকাশ দেওয়ান জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় বাড়ি থেকে বের হয়ে পাশের রাস্তায় হাঁটাহাঁটি করছিলেন তুহিনসহ কয়েকজন। এ সময় প্রতিপক্ষ আতিক-অহিদ গ্রুপের অনুসারী লিটন ও ইয়াছিনের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজনের একটি গ্রুপ সেখানে উপস্থিত হয়ে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বিএনপিকর্মী তুহিন। পরে প্রতিপক্ষরা পালিয়ে যায়। তাৎক্ষণিক উদ্ধার করে রাত ১১টার দিকে তাকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে আনা হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের আপন ভাই আক্কাস দেওয়ান বলেন, রাতে বাড়ি আশপাশে আগে থেকেই ওত পেতে লিটন ব্যাপারী পেছন থেকে গুলি করে আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে। লিটন বিএনপি নেতা উজির আলী গ্রুপের সন্ত্রাসী।

নিহত তুহিনের মা লাকী বেগম আহাজারি করতে করতে বলেন, ‘আমার নিষ্পাপ ছেলেকে গুলি কইরা মাইরা লাইছে। আমি তাগো ফাঁসি চাই।’

মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. প্রান্ত সরদার বলেন, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার পিঠে ও ঘাড়ে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা উজির আলী বলেন, ‘আমি ঢাকায় থাকি। গ্রামে কী হয়েছে, তা আমার জানা নেই। আমি এর সঙ্গে জড়িত নই।’ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর ফকির দাবি করেন দলীয় কোনো বিরোধে এ খুনের ঘটনা ঘটেনি।

তিনি বলেন, আধিপত্য নিয়ে স্থানীয়ভাবে দলের ওই গ্রুপের মধ্যে মূলত বিরোধ চলে আসছে। এটা কোনো দলীয় ব্যাপার না। নিহত তুহিন দলের কোনো পদে না থাকলেও সক্রিয় কর্মী ছিলেন।

সদর থানার ওসি সাইফুল আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। বর্তমানে মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের বেহেরকান্দি ও পার্শ্ববর্তী মুন্সীকান্দি গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবীর জানান, খুনের ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে শটগানের গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা যায়নি। তিনি বলেন, কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত করলে বিষয়টি জানা হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

খুলনায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে বিএনপিকর্মী নিহত, গুলিবিদ্ধ ১ : খুলনায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে এমদাদুল হক (৫৫) নামের এক বিএনপিকর্মী নিহত ও মামুন শেখ (৪৫) নামে অন্য একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গত রবিবার রাতে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) আইটি গেটসংলগ্ন স্থানীয় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এ বোমা হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ মামুন শেখ স্থানীয় আড়ংঘাটা থানার যোগীপোল ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য সদস্য। তবে এ ঘটনায় গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, রবিবার রাত ৯টার দিকে বিএনপি নেতা মামুন শেখ স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে অফিসে বসেছিলেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা হঠাৎ অফিসে  থাকা মামুন শেখকে লক্ষ্য করে পরপর দুটি বোমা ও চার রাউন্ড গুলি করে। প্রথম গুলি মিসিং হয়ে মামুন শেখের পাশে থাকা এমদাদুল হকের শরীরে বিদ্ধ হলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এরপর সন্ত্রাসীদের গুলিতে মামুন শেখ গুরুতর আহত হন। পরে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলে দলীয় নেতাকর্মী ও স্বজনরা আহত মামুনকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তাকে খুলনা গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

আড়ংঘাটা থানার ওসি খায়রুল বাসার বলেন, গুলিতে নিহত এমদাদুল হক একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। এ হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িতদের তথ্য উদঘাটন ও তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সোমবার (গতকাল) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত