৫ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিল ইসরায়েল

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:৩৫ এএম

হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে পাঁচ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে ইসরায়েল। সেই সঙ্গে ৪৫ ফিলিস্তিনি বন্দির মরদেহও ফেরত দিয়েছে দখলদার দেশটি। স্থানীয় সময় গত সোমবার সন্ধ্যায় মুক্তি পান ওই পাঁচ ফিলিস্তিনি। পরে তাদের শারীরিক পরীক্ষার জন্য দেইর আল-বালাহর আল-আকসা হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে স্বজনরা জড়ো হন। কেউ কেউ মুক্ত হওয়া বন্দিদের জড়িয়ে ধরেন, কেউ আবার নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের খোঁজে উদ্বিগ্নভাবে ঘুরে বেড়ান। ভঙ্গুর এই যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। গতকাল মঙ্গলবার গাজা উপত্যকার দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এদিকে, ফিলিস্তিনি বন্দিকে নির্যাতনের ভিডিও ফাঁস, ইসরায়েলে সেনাবাহিনীর সাবেক প্রসিকিউটর  ইয়াফাত তোমের-ইয়েরুশালমিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলি বাহিনী এই প্রথমবার অজানা ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দিল। ইসরায়েলে এখনো হাজারো ফিলিস্তিনি বন্দি আছেন। তাদের অনেকে অভিযোগ ছাড়াই আটক, যাকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো স্বেচ্ছাচারী আটক বলে মনে করে। সোমবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির (আইসিআরসি) মাধ্যমে ইসরায়েল তাদের কাছে আরও ৪৫ ফিলিস্তিনির মরদেহ হস্তান্তর করেছে।

এ নিয়ে যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত ২৭০টি মরদেহ গাজায় ফেরত এসেছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, ফরেনসিক দল এখন পর্যন্ত ৭৮টি মরদেহ শনাক্ত করেছে। চিকিৎসা নীতিমালা ও প্রটোকল মেনে পরীক্ষার পর মরদেহগুলো পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া হবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফেরত পাওয়া অনেক মরদেহে নির্যাতনের চিহ্ন ছিল। কারও হাত বাঁধা, চোখ বেঁধে রাখা, মুখ বিকৃত এমন অবস্থায় মরদেহগুলো পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া মরদেহগুলোর সঙ্গে কোনো শনাক্তকরণ ট্যাগও ছিল না। এই মরদেহ ও বন্দিবিনিময় যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের অংশ।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরায়েল হামলা চালানো অব্যাহত রেখেছে। নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সের একটি সূত্র আলজাজিরাকে জানায়, গত সোমবার রাফাহর উত্তরে ইসরায়েলি গোলাগুলিতে তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজায় তারা বিমান হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, কিছু ব্যক্তি ‘হলুদ রেখা’ অতিক্রম করেছিল, যা ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত এলাকা। এছাড়া গতকাল মঙ্গলবার গাজা উপত্যকার দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এদিকে, ফিলিস্তিনি বন্দিকে নির্যাতনের ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান আইন কর্মকর্তা মেজর জেনারেল ইয়াফাত তোমের-ইয়েরুশালমিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফাঁস হওয়া ভিডিওতে দক্ষিণ ইসরায়েলের তেইমান সামরিক ঘাঁটিতে এক ফিলিস্তিনি বন্দির ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের চিত্র দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তোমের-ইয়েরুশালমি গত সপ্তাহে সামরিক অ্যাডভোকেট জেনারেল পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি বলেন, ভিডিও ফাঁসের সম্পূর্ণ দায়ভার তিনি নিচ্ছেন। পদত্যাগের দুদিন পর রবিবার তাকে তেল আবিবের উত্তরে একটি সমুদ্রসৈকত থেকে আটক করা হয়। গত আগস্টে ইসরায়েলের একটি সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচারিত ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, সেনা রিজার্ভ সদস্যরা এক ফিলিস্তিনি বন্দিকে আড়াল করে লাঠি ও ধারালো বস্তু দিয়ে নির্যাতন করছে। পরে ওই বন্দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার পর পাঁচ রিজার্ভ সেনাকে ‘গুরুতর শারীরিক নির্যাতন ও ক্ষতিসাধনের’ অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রবিবার অভিযুক্তদের মধ্যে চারজন মুখে কালো মুখোশ পরে জেরুজালেমে সুপ্রিম কোর্টের সামনে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে বিচার বাতিলের দাবি জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত