জুলাই জাতীয় সনদকে আইনি স্বীকৃতি দিতে দ্রুত গণভোট আয়োজনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দলটির অভিযোগ, সরকার গণভোট আয়োজনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে না, যা তারা জাতির জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করে।
একই সঙ্গে একদিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের প্রস্তাবও দলটি প্রত্যাখ্যান করেছে। জামায়াত নভেম্বরে গণভোট আয়োজনের দাবি জানিয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে দলের নির্বাহী পরিষদের বৈঠক শেষে এ দাবি জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান।
সভা শেষে জানানো হয়, গণভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের আহ্বানও জানিয়েছে দলটি।
দলীয় প্রধান শফিকুর রহমান সম্প্রতি সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরেছেন। দেশে ফেরার পর তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আটদিনের সফরে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।
সেখানে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সবার—ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে।” তিনি আরও দাবি করেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদের পর দেশ এখন মুক্ত, এবং প্রবাসীদের ভোটাধিকার কার্যকর করতে সফটওয়্যারজনিত সমস্যাগুলো সমাধান করা প্রয়োজন। এজন্য অন্তত পনেরো দিনের অতিরিক্ত সময় চেয়েছেন তিনি।
আগামী নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থী দেবে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, দলটি এক বছর আগেই স্থানীয়ভাবে প্রার্থী নির্ধারণ করেছে এবং সময়মতো কেন্দ্রীয়ভাবে চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করা হবে।
জোট গঠনের ইঙ্গিত দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না; অন্যান্য দলকেও সঙ্গে নিয়ে প্রার্থিতা ঘোষণা করা হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনার জন্য এক সপ্তাহ সময় দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “মতের ভিন্নতা থাকাটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। সবাই একসঙ্গে বসে যদি ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারি, সেটা দেশের জন্যও ভালো হবে।”
