ঘাড়ব্যথায় অবহেলা করা যাবে না

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৫, ১২:১৯ এএম

কম্পিউটার, ল্যাপটপ ব্যবহারে দীর্ঘদিন শারীরিক বিকৃত ভঙ্গির কারণে দেখা দেয় মেরুদন্ডের সমস্যা। এর মধ্যে ঘাড়ব্যথা অন্যতম। এ ছাড়া অন্য জটিলতায়ও ঘাড় ব্যথা হতে পারে। বিভিন্ন পেশাজীবী, যারা সামনে ঝুঁকে কাজ করেন, তারা সহজেই ঘাড় ব্যথায় আক্রান্ত হন। কর্মজীবী মানুষ, যারা ঘাড়ে, মাথায় বা কাঁধে ভারী জিনিস বহন করেন, তাদের ঘাড় ব্যথার প্রবণতা বেশি। অনেকেই সামান্য ব্যথায় গুরুত্বারোপ করেন না। সঠিক চিকিৎসার অভাবে ঘাড় ব্যথায় দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা দেখা দিতে পারে।

কারণ 

আঘাতজনিত কারণে, ঘাড়ের পেশি ও লিগামেন্টে হঠাৎ করে টান অথবা চাপের কারণে, সঠিকভাবে না বসার কারণে ঘাড়ের হাড়গুলোর বক্রতার অস্বাভাবিক পরিবর্তন, মেরুদন্ডে ডিস্কজনিত সমস্যা ডিস্কের অতিরিক্ত চাপ, ডিস্কের স্থানচ্যুতি, মেরুরজ্জু বা নার্ভের ওপর চাপ, বাতজনিত কারণে, বয়সজনিত পরিবর্তন, অত্যধিক মানসিক চাপ, কিছু ফিজিওলজিক্যাল কন্ডিশনের কারণে।

উপসর্গ

ঘাড় ব্যথা কাঁধে, বুকে, মাথার পেছনে, বাহু, কনুই কিংবা হাতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সকালে ও শেষ রাতে ঘাড় জ্যাম হয়ে থাকা, সামনের দিকে ঝুঁকে কাজ করতে কষ্ট হওয়া, হঠাৎ তীব্র ঘাড় ব্যথা, ঘাড় ঘোরাতে কষ্ট হওয়া, ঘাড় একদিকে বেঁকে যাওয়া ইত্যাদি। ঘাড় থেকে হাতের আঙুল পর্যন্ত ঝিঁঝিঁ করা বা অবশ মনে হওয়া। কিছু ক্ষেত্রে, হাত-পায়ে দুর্বলতা, মাংস শুকিয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে।

ঝুঁকিতে যারা

যারা সারাক্ষণ ঘাড় সামনের দিকে ঝুঁকে কাজ করেন; যারা মাত্রাতিরিক্ত কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল ব্যবহার করেন; যারা ঘাড়ে, মাথায় বা কাঁধে ভারী জিনিস বহন করেন, যারা অত্যধিক ভ্রমণ করেন, যারা উঁচু বালিশ ব্যবহার করেন।

সমাধানের উপায়

ঘাড়ের ব্যথার সুনির্দিষ্ট চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার পাশাপাশি প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ণয় করেন। বেদনানাশক ওষুধ, রিল্যাক্সেশন ওষুধ উপকারী হতে পারে। বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম করালে উপকার আসবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইন্টারভেনশনাল চিকিৎসা, এমনকি মারাত্মক ক্ষেত্রে সার্জিক্যাল চিকিৎসারও প্রয়োজন হতে পারে।

প্রতিরোধের উপায়

শক্ত সমান বিছানা, পাতলা তোশক, মাঝারি আকৃতির বালিশ ব্যবহার করতে হবে। উঁচু বালিশ, দুই বা ততোধিক বালিশ অথবা অত্যধিক পাতলা বালিশ গ্রহণযোগ্য নয়। ঘাড় সোজা রেখে চেয়ারে বসুন। টেলিভিশন বা কম্পিউটারে কাজের সময় চোখ মনিটরের লেবেলে রাখুন। একনাগাড়ে দীর্ঘসময় ঘাড় নুইয়ে মোবাইল ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। ঘাড়ে, মাথায় বা কাঁধে ভারী জিনিস বহন করা থেকে বিরত থাকুন। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা পরিহার করুন। মাঝে মাঝে উঠে হাঁটাচলা করুন। বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত