সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষাবিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্তে উদ্বেগ জানিয়েছে আইন ও সালিস কেন্দ্র (আসক)। আসক মনে করে, অন্তর্বর্তী সরকারের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনের ক্ষেত্রে একটি অনভিপ্রেত ও পশ্চাৎমুখী পদক্ষেপ। সরকারের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবিতে গতকাল বুধবার বিবৃতি দেয় আসক। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ বাতিলে সরকারের যুক্তি উল্লেখ করে বিবৃতিতে আসক বলছে, ‘আপাত দৃষ্টিতে সরকারের এই ব্যাখ্যা যুক্তিসঙ্গত মনে হলেও বাস্তব প্রেক্ষাপটে এটি পরিকল্পনার ঘাটতির চেয়ে বেশি রাজনৈতিক চাপের ফল। পরিকল্পনার ত্রুটি থাকলে তার সমাধান হওয়া উচিত ছিল যুক্তিসঙ্গত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে, সেটি বাতিল করে নয়।’
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৮ আগস্ট প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা প্রকাশের পর থেকে ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠী প্রকাশ্যে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের বিরোধিতা করে তার পরিবর্তে ধর্ম শিক্ষক নিয়োগের দাবি তোলে পাশাপাশি গোষ্ঠীটি বিভিন্ন সভা, সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সরকারকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আলটিমেটাম দেয়। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসক তাদের বিবৃতিতে বলে, ‘এই সিদ্ধান্ত (শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাব বাতিল) পুনর্বিবেচনা করে দেশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধীরে ধীরে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষাবিষয়ক শিক্ষক নিয়োগ করার বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হোক।’
শিক্ষাবিষয়ক যেকোনো নীতি কোনোভাবেই ধর্মীয় বা রাজনৈতিক চাপের প্রভাবে নয়, বরং যুক্তি, সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে প্রণীত হওয়ার উচিত বলে আসকের বিবৃতিতে বলা হয়।
