চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড

চেয়ারম্যানকে হুমকি দিয়ে দুই কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৪৯ পিএম

ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও দেখে নেওয়ার হুমকি পেলেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ইলিয়াস উদ্দিন আহাম্মদ। এটা অন্য কোথাও নয়, নিজের কক্ষেই পেলেন এই হুমকি। যিনি এই হুমকি দিয়েছেন তিনি এই বোর্ডের একজন কর্মচারী। কর্মচারী হয়ে চেয়ারম্যানের কক্ষে দাঁড়িয়ে চেয়ারম্যানকে হুমকি দেওয়ায় সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছেন সেই কর্মচারীকে।

একইসাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের কারণে একই শাস্তি পেয়েছেন আরেকজন কর্মকর্তা। গত রবিবার এই ঘটনা ঘটলেও গত বুধবার দুই জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও বিষয়টি প্রকাশ পায় বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর)।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই জন হলেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সেকশন অফিসার জাহেদ হোসেন ও অফিস সহায়ক জমির উদ্দিন। এছাড়া একই ঘটনায় অফিস সহকারী আইয়ুব আলীকে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হয়। একইসাথে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই জনকে কেন স্থায়ীভাবে চাকুরি হতে অব্যাহতি দেওয়া হবে না তা জানতে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

অপরদিকে কারণ দর্শানো নোটিশ পাওয়া আইয়ুব আলীকে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা জানতে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে চিঠির চাওয়া হয়েছে। গত বুধবার চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. এ কে এম সামছু উদ্দিন আজাদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ করা হয়।

আদেশে বলা হয়, গত রবিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে জাহেদ হোসেন, জমির উদ্দিন ও আইয়ুব আলী বিনা অনুমতিতে চেয়ারম্যানের দপ্তরে প্রবেশ করে পদোন্নতি ইস্যুতে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। একইসময় জাহেদ হোসেন ও জমির উদ্দিন চেয়ারম্যানকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। তবে এই বক্তব্য সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন জাহেদ হোসেন।

তিনি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড কর্মচারী সংসদের সভাপতি হিসেবে আমি আমার সেক্রেটারী (আইয়ুব আলী) ও জমির উদ্দিনকে নিয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করতে যাই। সেখানে বোর্ডের আরেকটি পক্ষের (চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড কর্মচারী পরিষদ) সঙ্গে আমাদের কিছু বাকবিতন্ডা হয়। চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমাদের কিছু হয়নি। সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আমাদেরকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ ও কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’

জাহেদ হোসেনের বক্তব্যকে অস্বীকার করে সেখানে উপস্থিত থাকা সেকশন অফিসার সরওয়ার কায়সার (চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড কর্মচারী পরিষদের সদস্য) বলেন, আমরা কয়েকজন সেকশন অফিসার আমাদের পদোন্নতি বিষয়ক দাবি নিয়ে চেয়ারম্যান মহোদয়ের কাছে দেখা করতে গিয়েছিলাম। কর্মচারী পরিষদের পক্ষ থেকে যাইনি। পদোন্নতি নিয়ে কথা বলার সময় জাহিদ হোসেন ও তার সহযোগীদের সঙ্গে আমাদের বাকবিতন্ডা হয়। এসময় তারা চেয়ারম্যান মহোদয়ের সঙ্গেও অশোভন আচরণ করেন। এজন্য আমরা লিখিতভাবে চেয়ারম্যানের কাছে এর প্রতিকার চেয়ে আবেদন করি।

এদিকে সেদিনের ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ইলিয়াস উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, ‘সাময়িক বরখাস্তকৃত আদেশে বর্ণিত সকল ঘটনা সত্যি। এই ঘটনার আলোকে আমি বোর্ডের সকল অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। সেই বৈঠকে অভিযুক্তদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ এসেছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, সকলের অবশ্যই কিছু বলার থাকতে পারে। কিন্তু তা হতে হবে পরিমার্জিতভাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত