ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও দেখে নেয়ার হুমকি পেলেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ইলিয়াস উদ্দিন আহাম্মদ। এটা অন্য কোথাও নয়, নিজের কক্ষেই পেলেন এই হুমকি। যিনি এই হুমকি দিয়েছেন তিনি এই বোর্ডের একজন কর্মচারী। কর্মচারী হয়ে চেয়ারম্যানের কক্ষে দাঁড়িয়ে চেয়ারম্যানকে হুমকি দেয়ায় সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে সেই কর্মচারীকে। একইসাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের কারণে একই শাস্তি পেয়েছেন আরেকজন কর্মকর্তা। রবিবার (২ নভেম্বর) এই ঘটনা ঘটে। বুধবার দুই জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বিষয়টি প্রকাশ পায় বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর)
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই জন হলেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সেকশন অফিসার জাহেদ হোসেন ও অফিস সহায়ক জমির উদ্দিন। এছাড়া একই ঘটনায় অফিস সহকারী আইয়ুব আলীকে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হয়। একইসাথে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই জনকে কেন স্থায়ীভাবে চাকরি হতে অব্যাহতি দেয়া হবে না তা জানতে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। অপরদিকে কারণ দর্শানো নোটিশ পাওয়া আইয়ুব আলীকে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা জানতে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে চিঠির চাওয়া হয়েছে। বুধবার চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. এ কে এম সামছু উদ্দিন আজাদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ করা হয়।
আদেশে বলা হয়, রবিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে জাহেদ হোসেন, জমির উদ্দিন ও আইয়ুব আলী বিনা অনুমতিতে চেয়ারম্যানের দপ্তরে প্রবেশ করে পদোন্নতি ইস্যুতে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। একইসময় জাহেদ হোসেন ও জমির উদ্দিন চেয়ারম্যানকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। তবে এই বক্তব্য সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন জাহেদ হোসেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন,‘ চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড কর্মচারী সংসদের সভাপতি হিসেবে আমি আমার সেক্রেটারী (আইয়ুব আলী) ও জমির উদ্দিনকে নিয়ে চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করতে যাই। সেখানে বোর্ডের আরেকটি পক্ষের (চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড কর্মচারী পরিষদ) সাথে আমাদের কিছু বাক বিতণ্ডা হয়। চেয়ারম্যানের সাথে আমাদের কিছু হয়নি। সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আমাদেরকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ ও কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হয়েছে।’
এদিকে সেদিনের ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ইলিয়াস উদ্দিন আহাম্মদ বলেন,‘ সাময়িক বরখাস্তকৃত আদেশে বর্ণিত সকল ঘটনা সত্যি। এই ঘটনার আলোকে আমি বোর্ডের সকল অফিসারদের সাথে বৈঠক করেছি। সেই বৈঠকে অভিযুক্তদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ারও সুপারিশ এসেছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, সকলের অবশ্যই কিছু বলার থাকতে পারে। কিন্তু তা হতে হবে পরিমার্জিতভাবে।