রাজনীতিতে অনৈক্য ও অস্থিরতা

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:০৭ এএম

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পদ্ধতি এবং জুলাই সনদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। ঐতিহাসিক ‘জুলাই সনদ’ বা ঐক্যের অঙ্গীকার পরস্পরবিরোধী কূটনীতি এবং দলীয় স্বার্থের প্রতিযোগিতায় বিভক্ত। রাজনৈতিক মতানৈক্যের কারণে সংস্কারের প্রত্যাশা পদদলিত হতে পারে এমন আশঙ্কা করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়ার উপায় নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে অন্তর্বর্তী সরকারকে নির্দেশনা দিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে অনুরোধ করা হয়েছে। বিএনপির দিক থেকে এর জন্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। অন্য দলের ডাকেও যাবে না দলটি। একইভাবে আলোচনায় আগ্রহ নেই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)। ফলে দলগুলোর মধ্যে আলোচনা অনিশ্চয়তায় পড়েছে। পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট প্রশ্নে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

এরই মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, শেষ পর্যন্ত নির্বাচন হবে কি না তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ বাড়ছে। গতকাল ড. মুহাম্মদ ইউনূস বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীসহ ৮ দলের একটি প্রতিনিধিদল। নির্বাচনের আগে গণভোট ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারিসহ পাঁচ দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে তারা। জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারিসহ ৫ দাবি না মানলে, আগামী ১১ নভেম্বর ঢাকার চিত্র ভিন্ন হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও গণভোট নিয়ে সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকট নিরসনে রাজনৈতিক দলগুলোকে সমঝোতার সাত দিনের তিন দিন পার হয়ে গেছে। জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামি কয়েকটি দল এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে রেফারির ভূমিকা গ্রহণের আহ্বান জানালেও, বেশিরভাগ দল মনে করে চলমান সংকটের জন্য দায়ী সরকার ও ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’। সরকারকেই সমস্যার সমাধান করতে হবে। এই অনিশ্চয়তার মধ্যে বুধবার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট প্রশ্নে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ রাজনৈতিক দলগুলোর দূরত্ব ঘোচাতে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে ৯টি রাজনৈতিক দল। এ উদ্যোগে গণতন্ত্র মঞ্চের ৬ দলের সঙ্গে রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ও গণঅধিকার পরিষদ। বুধবার দুপুরে এসব দলের নেতারা সংকট সমাধানে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন। দুটি বিশেষ দলের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে কমিশন সুপারিশ করেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। তারা মনে করে, দেশের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতিতে জাতীয় নির্বাচনের আগে জুলাই সনদকে ইস্যু করে গণভোট চাপিয়ে দেওয়ার তৎপরতায় সংকট দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি ইসলামি দল সনদ বাস্তবায়নে নভেম্বর মাসেই গণভোট দাবি করে আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। এনসিপি সরকারের বিরুদ্ধে সময় নষ্টের অভিযোগ তুলেছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতীয় নির্বাচন বানচালে ভেতর বা বাইরের যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। সার্বিক বিবেচনায় বোঝা যাচ্ছে, আসন্ন নির্বাচন নিয়ে নানামুখী প্রশ্ন উত্থাপন হতে পারে । একটি বিষয় পরিষ্কার যে, আসন্ন নির্বাচনকে ব্যাহত করতে একটি দল সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তারাই পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন দলের মধ্যে বৈরিতা তৈরি করছে। উসকে দিচ্ছে বিরোধিতা। এই অবস্থায় বিভিন্ন দলের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্যের বিকল্প নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত