ডায়াবেটিক ফুট কেয়ার অবহেলা নয়, যত্নই প্রতিরোধ

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:৫৪ এএম

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১ কোটিরও বেশি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। গবেষণা বলছে, ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে প্রতি ৬ জনে ১ জনের জীবনে অন্তত একবার পায়ে ক্ষত হয়। এর মধ্যে অনেকেই চিকিৎসা না করে অবহেলা করার কারণে সংক্রমণ, এমনকি অঙ্গ হারানোর মতো জটিলতায় পড়েন।

কেন পায়ে সমস্যা হয়

স্নায়ুর ক্ষতি (Neuropathy) : ব্যথা, কাটা বা ফোস্কা টের পাওয়া যায় না।

রক্ত সঞ্চালন কমে যাওয়া : ক্ষত শুকাতে দেরি হয়।

ইনফেকশনের ঝুঁকি : সামান্য কাটা থেকেও বড় সংক্রমণ হতে পারে।

অঙ্গ হারানোর ঝুকি : দেরি করলে অনেক সময় পা কাটতে হয় (অ্যামপুটেশন)।

প্রতিদিনের যতœ

 প্রতিদিন পরীক্ষা করুন : পায়ে ফোসকা, কাটা, দাগ বা ফোলা আছে কি না। আয়না ব্যবহার করতে পারেন।

 পা পরিষ্কার রাখুন : হালকা গরম পানি ও মাইল্ড সাবান দিয়ে

ধুয়ে নিন।

 আঙুলের ফাঁক শুকান : আর্দ্রতা থেকে ফাঙ্গাল সংক্রমণ হয়।

 ত্বক নরম রাখুন : ময়েশ্চারাইজার বা ভ্যাসলিন ব্যবহার করুন (আঙুলের ফাঁকে নয়)।

 নখ ছোট করে কাটুন : সবসময় সোজা করে কাটুন, কোনায় কেটে ফেলবেন না।

 সঠিক জুতা ব্যবহার করুন : নরম, আরামদায়ক জুতা পরুন। কটন মোজা ব্যবহার করুন।

 খালি পায়ে হাঁটবেন না : বাড়ির ভেতরও নয়।

 রক্ত সঞ্চালন সচল রাখুন : নিয়মিত হাঁটাহাঁটি, ব্যায়াম ও ডাক্তারের পরামর্শ মতো ওষুধ খান।

যা করবেন না

খালি পায়ে হাঁটা।

খুব গরম পানিতে পা ভেজানো।

ব্লেড বা ছুরি দিয়ে নখ বা শক্ত চামড়া কাটা।

আঁটসাঁট জুতা বা সিনথেটিক মোজা পরা।

ক্ষত বা ফোসকা নিজে থেকে কেটে ফেলা।

কখন ডাক্তার দেখাবেন

 পায়ের ক্ষত ২ দিনের বেশি শুকাচ্ছে না

 পা ফুলে গেছে বা লালচে দাগ হয়েছে

 আঙুল কালচে বা ঠা-া লাগছে

 হাঁটার সময় ব্যথা বা জ¦ালা করছে

 পুঁজ বা দুর্গন্ধ হচ্ছে

চিকিৎসকের বিশেষ পরামর্শ

বছরে অন্তত একবার পডিয়াট্রিস্ট বা ডাক্তারের কাছে পায়ের চেকআপ করুন।

নিয়মিত ব্লাড সুগার কন্ট্রোল করুন।

হাই ব্লাড প্রেসার ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

ধূমপান ত্যাগ করুন এটি রক্ত সঞ্চালন আরও খারাপ করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত