বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১ কোটিরও বেশি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। গবেষণা বলছে, ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে প্রতি ৬ জনে ১ জনের জীবনে অন্তত একবার পায়ে ক্ষত হয়। এর মধ্যে অনেকেই চিকিৎসা না করে অবহেলা করার কারণে সংক্রমণ, এমনকি অঙ্গ হারানোর মতো জটিলতায় পড়েন।
কেন পায়ে সমস্যা হয়
স্নায়ুর ক্ষতি (Neuropathy) : ব্যথা, কাটা বা ফোস্কা টের পাওয়া যায় না।
রক্ত সঞ্চালন কমে যাওয়া : ক্ষত শুকাতে দেরি হয়।
ইনফেকশনের ঝুঁকি : সামান্য কাটা থেকেও বড় সংক্রমণ হতে পারে।
অঙ্গ হারানোর ঝুকি : দেরি করলে অনেক সময় পা কাটতে হয় (অ্যামপুটেশন)।
প্রতিদিনের যতœ
প্রতিদিন পরীক্ষা করুন : পায়ে ফোসকা, কাটা, দাগ বা ফোলা আছে কি না। আয়না ব্যবহার করতে পারেন।
পা পরিষ্কার রাখুন : হালকা গরম পানি ও মাইল্ড সাবান দিয়ে
ধুয়ে নিন।
আঙুলের ফাঁক শুকান : আর্দ্রতা থেকে ফাঙ্গাল সংক্রমণ হয়।
ত্বক নরম রাখুন : ময়েশ্চারাইজার বা ভ্যাসলিন ব্যবহার করুন (আঙুলের ফাঁকে নয়)।
নখ ছোট করে কাটুন : সবসময় সোজা করে কাটুন, কোনায় কেটে ফেলবেন না।
সঠিক জুতা ব্যবহার করুন : নরম, আরামদায়ক জুতা পরুন। কটন মোজা ব্যবহার করুন।
খালি পায়ে হাঁটবেন না : বাড়ির ভেতরও নয়।
রক্ত সঞ্চালন সচল রাখুন : নিয়মিত হাঁটাহাঁটি, ব্যায়াম ও ডাক্তারের পরামর্শ মতো ওষুধ খান।
যা করবেন না
খালি পায়ে হাঁটা।
খুব গরম পানিতে পা ভেজানো।
ব্লেড বা ছুরি দিয়ে নখ বা শক্ত চামড়া কাটা।
আঁটসাঁট জুতা বা সিনথেটিক মোজা পরা।
ক্ষত বা ফোসকা নিজে থেকে কেটে ফেলা।
কখন ডাক্তার দেখাবেন
পায়ের ক্ষত ২ দিনের বেশি শুকাচ্ছে না
পা ফুলে গেছে বা লালচে দাগ হয়েছে
আঙুল কালচে বা ঠা-া লাগছে
হাঁটার সময় ব্যথা বা জ¦ালা করছে
পুঁজ বা দুর্গন্ধ হচ্ছে
চিকিৎসকের বিশেষ পরামর্শ
বছরে অন্তত একবার পডিয়াট্রিস্ট বা ডাক্তারের কাছে পায়ের চেকআপ করুন।
নিয়মিত ব্লাড সুগার কন্ট্রোল করুন।
হাই ব্লাড প্রেসার ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
ধূমপান ত্যাগ করুন এটি রক্ত সঞ্চালন আরও খারাপ করে।
