বাংলাদেশে মিলল প্রাণঘাতী ‘ক্যান্ডিডা অরিস’! ঝুঁকিতে নবজাতক

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৩:৫৩ পিএম

বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোর নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) ‘ক্যান্ডিডা অরিস’ নামক একটি বিপজ্জননক ছত্রাকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে, যা ‘ফাঙ্গাল সুপারবাগ’ হিসেবে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এই ছত্রাকটি অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ প্রতিরোধী এবং নবজাতকদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।

সম্প্রতি মাইক্রোবায়োলজি স্পেকট্রাম জার্নালে প্রকাশিত আইসিডিডিআর,বি’র এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের দুটি টারশিয়ারি পর্যায়ের হাসপাতালের এনআইসিইউতে ক্যান্ডিডা অরিস ছড়িয়ে পড়েছে। গবেষণাটি আইইডিসিআরের সহযোগিতায় এবং ইউএস সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) অর্থায়নে পরিচালিত হয়।

গবেষণা অনুযায়ী, ক্যান্ডিডা অরিস মানুষের ত্বকে কোনো লক্ষণ ছাড়াই দীর্ঘ সময় থাকতে পারে এবং প্রায় ১০% ক্ষেত্রে এটি সংক্রমণে রূপ নেয়। এটি প্রধানত রক্তের মতো জীবাণুমুক্ত স্থানে প্রবেশ করে, যা সংক্রমণকে অত্যন্ত প্রাণঘাতী করে তোলে। বাংলাদেশের মতো নিম্ন ও মধ্য-আয়ের দেশগুলোতে ক্যান্ডিডা অরিস সংক্রমণে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মৃত্যুর হার প্রায় ৭০%।

বিশেষজ্ঞরা জানান, এই ছত্রাকটি একাধিক অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হওয়ায় চিকিৎসা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে সিডিসি ২০১৯ সালে একে ‘অতি জরুরি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স হুমকি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংক্রমণ রোধে হাসপাতালগুলোতে ক্লোরিনভিত্তিক জীবাণুনাশকের ব্যবহার বাড়ানো এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ প্রটোকল কঠোরভাবে মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। নবজাতক ও দুর্বল রোগ প্রতিরোধক্ষম রোগীদের এই ছত্রাক থেকে সুরক্ষা দেওয়া এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত