লক্ষ্মীপুরে অবৈধ ইটভাটা বন্ধ কার্যক্রম চললেও যুবলীগ নেতার ২ ইটভাটা অক্ষত

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২৫, ০৫:১৪ পিএম

লক্ষ্মীপুরে জেলাজুড়ে গড়ে উঠা অবৈধ ইটভাটা বন্ধে শক্ত অবস্থান রয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। গত ৬দিন ধরে সদর, রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় টানা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গুড়িঁয়ে দিচ্ছে একের পর এক অবৈধ ইটভাটা। এখন পর্যন্ত তিন উপজেলায় প্রায় ২০টি ইটভাটা গুড়িঁয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে ১৯ নং তেয়ারীগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি আবু সাঈদ ওরফে রুবেল সানীর দুইটি অবৈধ ইট ভাটা এখনও অক্ষত। তার দুইটি ইটভাটার নাম হচ্ছে, সংসার ও মহানগর ইটভাটা। তবে কি কারণে অক্ষত রয়েছে সেটা জানা নেই কারও।

ইতিমধ্যে রুবেল সানীর লোকজনের দাবি, সব ইটভাটা ভাঙ্গা হলেও এই দুইটি ইটভাটা ভাঙ্গা হবে না বলে প্রশাসন থেকে এমন আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার দুপুরে সরজমিনে ১৯নং তেয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নে অবস্থিত অবৈধ মহানগর ও সংসার নামে যুবলীগনেতা রুবেল সানীর দুইটি ইটভাটা গিয়ে দেখা যায়, উৎসবের মতো ইট তৈরির কাজ করছেন শ্রমিকরা। অবৈধভাবে কৃষকের জমির মাটি কেটে ভাটাগুলোতে পাহাড় সমান উঁচু করেছে।

এছাড়া সম্প্রতি কয়েকটি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে ভাঙা হলেও ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি রুবেল সানীর ইট তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ওইদিনে বিকালে কুশাখালী ও পরাশগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালানোর খবর পেয়ে রুবেল সানী তার দুইটি ইটভাটার সামনের সড়কে দুইটি ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখেন। যেন তার ইটভাটায় কোনভাবে প্রশাসনের গাড়িগুলো ঢুকতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করতে দুইটি ট্রাকের চাকাগুলো খুলে রাখা হয়েছে। আর সবার কাছে বলছে দুইটি ট্রাক হঠাৎ নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে ট্রাকগুলো সরাতে পারছে না। আসলে বিষয়টি তা নয়, শুধু প্রশাসনের গাড়ি যেন ঢুকতে না পারে সেজন্য এমন পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানায়।

গত বৃহস্পতিবার থেকে রামগতি উপজেলার চর আফজাল এলাকা থেকে শুরু হয় অভিযান। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৬দিনে সদরসহ আমানত ইটভাটা, জেসমিন সারোয়ার, মোহনা, আবদুল ওয়াহাবসহ  ২০টি  ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ৫টি ভেক্যু মেশিনের সাহায্যে ভাটার চুল্লি, চিমনি এবং কাঁচা ইট বিনষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। অথচ অভিযানের প্রথম দিনে চৌধুরী বাজার এলাকায় রাস্তায় গাছের গুড়ি ও টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে শ্রমিকরা। এসময় প্রশাসন অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। ঘণ্টা খানেক অবরুদ্ধ থাকেন কর্মকর্তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংসার ও মহাসগর ব্রিকসের পাশের এক স্থানীয় বাসীন্দা বলেন, গত বছরও সংসার ও মহানগর ব্রিকসের মালিক রুবেল সানীকে জরিমানা করা হয়েছিল এবং ভাটা ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এবার শুনেছি জেলার এক বড় নেতার সুপারিশে মহানগর ও সংসার নামে দুই ইটভাটা ভাঙবে না। এনিয়ে স্হানীয় লোকদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। লক্ষ্মীপুরের পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদ পাঠান বলেন, রামগতি ও কমলনগরে ৫১টি ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে ৪৯টি ভাটা অবৈধ। জেলা-উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় এসব ভাটার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার থেকে টানা অভিযান চলছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রায় ২০টি অবৈধ ইটভাটা গুড়িঁয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে অবৈধ কোন ইটভাটা থাকবে না। যে যতবড় শক্তিশালী ব্যক্তিই হন কেন। পাশাপাশি অবৈধ ভাটা ভেঙে দেওয়ার পরেও যাতে চালু করতে না পারে, সেজন্য অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি জেলায় প্রায় শতাধিক ইটভাটার কোন কাগজপত্র নেই। এইগুলো পুরোপুরি অবৈধ। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত