রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় নিস্তব্ধ কুয়াকাটা

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২৫, ০২:৩০ পিএম

দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সমুদ্রবন্দর ও পর্যটনকেন্দ্র পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সৈকতে সরেজমিনে দেখা গেছে, একেবারে পর্যটকশূন্য পরিবেশ। হোটেল- মোটেল, রেস্টুরেন্ট, দোকানপাট সব জায়গাতেই এক ধরনের নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানায়,সাধারণত সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়েও কুয়াকাটায় দেশি-বিদেশি পর্যটকদের উপস্থিতিকে থাকলে বর্তমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এখন কুয়াকাটা পর্যটক শূন্য। হোটেল-মোটেল, ঝিনুক ও আচার মার্কেট, খাবার হোটেল-রেস্তোরাঁ, অটোচালক, মোটরবাইক চালক ও ফটোগ্রাফারসহ মোট ১৬টি পেশার মানুষ বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মাঈনুল ইসলাম বলেন, দিনে দোকান খুলে বসে থাকি, কোনো ক্রেতা পাই না। পর্যটক না থাকলে আমাদের ব্যবসা চলবে কীভাবে

ফটোগ্রাফার সাইফুল মুন্সী বলেন, সৈকতে এখন কেউ আসে না ছবি তুলতে। আগে প্রতিদিন অন্তত ৫ থেকে ১০ জনের ছবি তুলতাম। এখন পুরো দিনেও একজন পর্যটক মেলে না।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ বলেন, পর্যটক না থাকায় হোটেলের অনেক কর্মচারী বেকার হয়ে গেছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে অনেক হোটেল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ১৩ তারিখে তো একেবারেই ফাঁকা সৈকতের এমন দৃশ্য আগে দেখিনি।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা টোয়াকের সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, এখন পর্যটন মৌসুম শুরু হয়েছে। এই সময়ে পর্যটক বেশি থাকার কথা। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পর্যটক আসা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ বলেন, দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে পর্যটন ব্যবসা ধ্বংস হয়ে যাবে। কুয়াকাটা একটি পর্যটননির্ভর শহর এখানে ৭০ শতাংশ মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এই খাতের সঙ্গে জড়িত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত