তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বিলুপ্তবিষয়ক সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের কয়েকটি ধারা বাতিল করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল শুনবে সর্বোচ্চ আদালত। ওই সংশোধনীর অংশবিশেষ অসাংবিধানিক ও বাতিল করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল গতকাল বৃহস্পতিবার মঞ্জুর (আপিলের অনুমতি) করে আদেশ দেয় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ চারজনের পক্ষে করা এক রিট আবেদনের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করে আনা পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল বলে রায় দেয়। রায়ে হাইকোর্ট সংবিধানে যেকোনো সংশোধনী আনতে ১৪২ অনুচ্ছেদে অনুসৃত গণভোটের বিধান পুনরুজ্জীবিত করে। তবে, রায়ে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন সম্পূর্ণ বাতিল না করে বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদ সিদ্ধান্ত নেবে বলে উল্লেখ করে হাইকোর্ট।
গত ৪ নভেম্বর বদিউল আলমসহ চারজনের পক্ষে ওই সংশোধনীর সম্পূর্ণ অংশ বাতিল চেয়ে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করা হয়। এরপর নওগাঁর রানীনগরের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের পক্ষে পৃথক লিভ টু আপিল করা হয়। তিনটি লিভ টু আপিলের ওপর গত বুধবার ও গতকাল শুনানি নিয়ে লিভ মঞ্জুর করে আদেশ দেয় আপিল বিভাগ।
আদালতে বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এবং মোফাজ্জল হোসেনের পক্ষে আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
অ্যাডভোকেট শিশির মনির শুনানির বরাতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাইকোর্ট তার রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বহাল করেছে ঠিকই। কিন্তু তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য যে অনুচ্ছেদ আছে সেগুলোকে বাতিল ঘোষণা করেনি। ফলে সংবিধানের মধ্যে সাংঘর্ষিক অবস্থা রয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরত আসে তাহলে এর সঙ্গে আরও যে সব অনুচ্ছেদে একই ধরনের বিধান আছে, সেগুলো যদি প্রতিস্থাপন করা না হয় তাহলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান পরিপূর্ণভাবে কার্যকর করা সম্ভব হবে না।’ তিনি বলেন, সংবিধানে সংগঠন করার যে অধিকার সেটিকে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে একেবারে বিলীন করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে একনায়কতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। এটি আমরা উপস্থাপন করেছি। সুপ্রিম কোর্ট এগুলো বিবেচনা করে প্রাথমিক গ্রাউন্ড পেয়েছে। এ জন্য লিভ মঞ্জুর করেছে।
২০১১ সালের ৩০ জুন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাসের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া ওই সংশোধনীতে জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনসংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করাসহ ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল।
