'এটাই ইংল্যান্ডের সেরা দল', নিখুঁত বাছাইপর্ব শেষ করে বললেন হ্যারি কেইন 

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:২১ পিএম

আলবেনিয়ার বিপক্ষে রোববার ২–০ গোলের জয়ে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের নিখুঁত অভিযান শেষ করেছে ইংল্যান্ড। টমাস টুখেলের দল আট ম্যাচে আট জয়ে ইউরোপের প্রথম দল হিসেবে কোনো গোল না খেয়ে অন্তত ছয় ম্যাচের বাছাইপর্বে সবক'টি ম্যাচ জয়ের কীর্তি গড়েছে।

ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন ঘোষণা দিয়েছেন—এই দল “ইংল্যান্ডের ইতিহাসে যতটা ভালো ছিল কখনো, ততটাই ভালো।”

রবিবার তিরানায় শেষ দুই গোল করে তিনি নিশ্চিত করেছেন গ্রুপ–কে তে টানা আট জয়ের নিখুঁত রেকর্ড। টানা দুই ইউরো ফাইনাল ও একটি বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা থাকা কেন মনে করেন, টুখেলের অধীনে দলটি এখন বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট। 'শুরুর একাদশ, বেঞ্চ থেকে যারা আসে—সব মিলিয়ে আমরা ফেভারিট হিসেবেই বিশ্বকাপে যাব,' বলেন কেইন।

আট ম্যাচে ২২ গোল এবং শূন্য হজম—যুক্তরাষ্ট্র–কানাডা–মেক্সিকোর মাটিতে বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে প্রস্তুতিই বলে দিচ্ছে, ইংল্যান্ড এবার বড় কিছুর স্বপ্ন দেখতেই পারে। বিশ্বকাপের আগে এখন দীর্ঘ বিরতিতে যাওয়ার আগে কেইন বললেন, 'আমরা মানদণ্ড ঠিক করে ফেলেছি। বছর শেষে জয় দিয়ে শেষে করা খুব জরুরি ছিল। এখন নিশ্চিন্তে অপেক্ষা করতে পারি মার্চ পর্যন্ত।'

এএফপি স্পোর্ট তুলে ধরেছে ইংল্যান্ডকে ২০২৬ বিশ্বকাপে শিরোপার অন্যতম ফেভারিট করে তুলতে পারে যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ

টুখেলের ট্যাকটিক্যাল শ্রেষ্ঠত্ব

দায়িত্ব নেওয়ার শুরুটা খুব ভালো না হলেও গত ১১ মাসে টমাস টুখেল ইংল্যান্ডকে বদলে দিয়েছেন। তাঁর তীক্ষ্ণ ট্যাকটিক্যাল সিদ্ধান্তে ইংল্যান্ড নতুন উদ্যম পেয়েছে।

গ্যারেথ সাউথগেটের আমলে রক্ষণাত্মক মনোভাব ও দেরিতে বদলি নেওয়াই ছিল সমালোচনার মূল জায়গা। ২০২১ ও ২০২৪ ইউরো ফাইনাল এবং ২০১৮ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে সাউথগেটের সেই সতর্কতার মূল্য দিতে হয়েছিল ইংল্যান্ডকে।

কিন্তু টুখেল চাপের মুহূর্তে স্থির থাকেন—চেলসিকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতানো ও পিএসজি-বায়ার্নে শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা তাঁর বড় সম্পদ। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগছে ইংল্যান্ডে।

সার্বিয়ার বিপক্ষে ২–০ জয়ে বদলি হিসেবে নামা এজে ও ফোডেন মিলিয়ে দ্বিতীয় গোল করান। আলবেনিয়ার বিপক্ষে আবার বদলি সাকা ও র‍্যাশফোর্ড অ্যাসিস্ট করেন হ্যারি কেনের দুই গোলের জন্য।

জুড বেলিংহামকেও তিনি কঠোরভাবে সামলাচ্ছেন। সাউথগেট যেখানে তাঁকে মানিয়ে নিতে মরিয়া ছিলেন, টুখেল সেখানে কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রেখেছেন—অক্টোবরে তাকে বিশ্রাম দেওয়া, সার্বিয়ার বিপক্ষে সীমিত খেলানো এবং আলবেনিয়ার বিপক্ষে প্রতিস্থাপনের পর বিরক্তি দেখালে প্রকাশ্যে ‘নিয়ম মানার’ বার্তা দেওয়া—সব মিলিয়ে দল–প্রথম মানসিকতা প্রতিষ্ঠা করেছেন।

এনএফএল–ধাঁচের সেট–পিস প্লেবুক

প্রিমিয়ার লিগে যেভাবে কর্নার, ফ্রি–কিক ও লং–থ্রোতে দলগুলো গোলের সুযোগ সৃষ্টি করছে, তা টুখেল ইংল্যান্ডেও প্রয়োগ করতে চান। অধিনায়ক হ্যারি কেন জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের জন্য ইংল্যান্ড তৈরি করছে ‘এনএফএল প্লেবুক’—প্রতিপক্ষ জোনাল নাকি ম্যান–মার্কিং, তা দেখে আলাদা আলাদা সেট–পিস রুটিন প্রয়োগ করবে তারা।

কেইনের ভাষায়, “সেট–পিসে যে দল ভালো, তারাই সাধারণত টুর্নামেন্ট জেতে।” আলবেনিয়ার বিপক্ষে সাকার কর্নার থেকেই তাঁর প্রথম গোল—বিশ্বকাপ প্রতিপক্ষের জন্য স্পষ্ট সতর্কবার্তা।

দলের গভীরতা

ইংল্যান্ড এখন এমন সময়ে আছে, যখন প্রায় সব পজিশনেই বিকল্প খেলোয়াড়দের মান অত্যন্ত উচ্চ। আলবেনিয়ার মাঠে সাত পরিবর্তন করেও অজেয় ধারায় থাকা দলকে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। কোল পালমার, ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার–আর্নল্ড, গ্রিলিশ কিংবা ম্যাগুইয়ার ছাড়াই তরুণ নিকো ও'রেইলি, এলিয়ট অ্যান্ডারসন, জ্যারড বোয়েন, এজে, কোয়ানসা ও হোয়ার্টন জায়গা পাওয়ার লড়াই আরও তীব্র করেছেন। শুধু হ্যারি কেন—যার গোল সংখ্যা এখন ৭৮—অপরিবর্তনীয়। বাকি সবখানে টুখেলের হাতে সমান মানের বিকল্প।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত