পল্লবীতে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:২৩ এএম

রাজধানীর পল্লবী-১২ নম্বার এলাকায় একটি হার্ডওয়্যারের দোকানে ছিলেন থানা যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়া। হুট করেই মোটরবাইকে করে সেখানে আসেন আরও তিনজন। এসেই তার বুকে-পিঠে পিস্তল ঠেকিয়ে টানা গুলি চালান। মুহূর্তেই সেখানে লুটিয়ে পড়েন সেই যুবদল নেতা। গতকাল সোমবার সন্ধ্যার এই ঘটনায় তাকে নেওয়া হয় সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে। সেখানেই চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও দায়িত্বশীল নেতারা।

তার একাধিক রাজনৈতিক সহযোদ্ধা বলেন, কে বা কারা গুলি করেছে তাৎক্ষণিক তা জানা যায়নি। গুলিবিদ্ধ কিবরিয়াকে মুমূর্ষু অবস্থায় সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কিবরিয়া খুনের ঘটনায় পল্লবী-মিরপুরসহ আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা আমরা শুনেছি। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ভুক্তভোগীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে মারা গেছে না কি বেঁচে আছে সেই বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই। কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সেটা জানতে তদন্ত চলছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

জানা গেছে, মিরপুর পল্লবী থানার পেছনে সি ব্লক এলাকায় এই গুলির ঘটনা ঘটে। পরে লোকজন তাকে উদ্ধার করে একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ বলছে, সন্ধ্যা ৬ টা ৪০ মিনিটে পল্লবী সেকশন-১২ এ বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারি দোকানে বসে থাকা অবস্থায় পল্লবী থানা যুবদল সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়াকে মোটরসাইকেলযোগে তিন দুর্বৃত্ত মাথা, বুকে ও পিঠে পিস্তল ঠেকিয়ে ৭ রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে ৭ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।

এর আগে গত মঙ্গলবার সকালে মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাব্বিরের মরদেহ উদ্ধার হয় চন্দ্রিমা হাউজিংয়ের তার ভাড়া বাসা থেকে। এটিকে রহস্যজনক মৃত্যু বলছে পুলিশ। বাসার মেঝেতে গলায় দড়ি বাঁধা অবস্থায় সাব্বির পড়েছিলেন, তখন হাত দুটি বাঁধা ছিল পেছনে। ওই অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনার আগের রাতে গত সোমবার (১০ নভেম্বর) রাজধানীর গুলশানে ছাত্রদল নেতা সাইদুল ইসলাম সৌরভকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। যদিও এটিকে প্রেমঘটিত দ্বন্দ্ব হিসেবে উল্লেখ করে হত্যাকান্ডে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে গুলশান থানা পুলিশ। বিগত কয়েক সপ্তাহ থেকে ঢাকায় গুলিতে হত্যা ও আহত করার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর সূত্রাপুরে শীর্ষসন্ত্রাসী মামুনকে গুলির ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত