পুলিশের নাম ভাঙিয়ে কথিত ‘ক্যাশিয়ার’ এমরানের বেপরোয়া চাঁদাবাজি

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০২৫, ০৪:২৩ পিএম

চট্টগ্রাম নগরের খুলশি থানা কেন্দ্রিক বিভিন্ন গেস্ট হাউজ, আবাসিক হোটেল ও মাদকের স্পট থেকে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি হচ্ছে। এমরান হোসাইন নামে এক যুবক নিজেকে থানার ‘ক্যাশিয়ার’ পরিচয় দিয়ে এসব চাঁদাবাজি করছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর অভিযোগ, এমরান হোসাইন গত ৪-৫ বছর ধরে পুলিশের নামে চাঁদাবাজি করছে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে থানার কথিত এই ‘ক্যাশিয়ারের’ চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ ছিলেন সেখানকার ব্যবসায়ীরা। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরেও এমরানের চাঁদাবাজির দাপট থামেনি।

সম্প্রতি খুলশি থানার ওসি ও সেকেন্ড অফিসার নুরুল ইসলামের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন হোটেল, মোটেল, গেস্ট হাউজ এবং একই থানাধীন মাদক স্পটসহ বিভিন্ন ‘অপরাধমূলক’ খাত থেকে প্রতিমাসে অন্তত ১৪ থেকে ১৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করছেন। নিয়মিত চাঁদা না দিলে হোটেল, মোটেল ও গেস্ট হাউজ বন্ধের হুমিকও দেন এমরান। তবে আওয়ামী শাসন আমলে উক্ত স্পটগুলো থেকে পুলিশের নামে ব্যাপক চাঁদাবাজি করলেও ইদানিং কিছুটা রাখ-ঢাক করে চাঁদাবাজি করে যাচ্ছেন এমরান। একাধিক ভুক্তভোগীর অভিমত, অফ দ্য রেকর্ডে থানা পুলিশের ‘সায়’ না থাকলে চাঁদাবাজির করার সাহস পেতেন না কথিত ‘ক্যাশিয়ার’ এমরান।

পুলিশের নাম ভাঙিয়ে এমরানের চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে নগরের খুলশি থানার ওসি শাহীনুর আলম রবিবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এমরান হোসাইন নামের কাউকে আমি চিনি না। শুধু এমরান কেন, হোটেল, মোটেল বা গেস্ট হাউজে যে কেউ চাঁদাবাজি করতে গেলে তাকে ধরে যেন আমাকে ফোন দেন।’

খুলশি থানাধীন ফয়স লেক এলাকার যেসব হোটেল, মোটেল ও গেস্ট হাউজ থেকে এমরান নিয়মিত চাঁদা আদায় করেন এসবের মধ্যে চারটির নাম পাওয়া গেছে। সেগুলো হলো স্বপ্ন নিবাস, মোটেল সিক্স সুপার সনিক, প্রিন্স আবাসিক হোটেল এবং ফয়স লেক গেস্ট হাউজ।

ভুক্তভোগী প্রিন্স আবাসিক হোটেলের মালিক রাজিব হাসান ওরফে রাজু জানান, মাস দুয়েক আগে খুলশি থানা পুলিশের ভয়ভীতি দেখিয়ে কথিত ক্যাশিয়ার এমরান হোসাইন তার প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার থেকে ৭০ হাজার টাকা চাঁদা নিয়েছেন। ‘আমি এমরানকে খুঁজছি। তাকে পেলে পিটিয়ে বিরিয়ানি বানাব’ বলেন রাজু।

আরেক ভুক্তভোগী ফয়স লেক গেস্ট হাউজের মালিক শামীম আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার আমলে এমরান হোসাইন নামে এক ব্যক্তি পুলিশের নামে হোটেল, মোটেল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির করতেন বলে শুনেছি। এখন আওয়ামী সরকার নেই। কাউকে চাঁদা দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না।’

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের নাম ভাঙিয়ে গত ১৪ অক্টোবর ‘রূপসী বাংলা’ ও ‘প্রিন্স আবাসিক হোটেল’ থেকে ৭০ হাজার টাকা এবং ১৬ অক্টোবর ‘স্বপ্ন বিলাস হোটেল’ থেকে ৬৫ হাজার এবং চলতি মাসে মোটেল সিক্স সুপার সনিক থেকে ১ লাখ টাকা নিয়েছেন ‘ক্যাশিয়ার’ এমরান হোসাইন। জানা গেছে, শুধু হোটেল নয়, মতিঝর্ণা এলাকার একাধিক মাদক স্পট থেকেও নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এই কথিত ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধে। থানা পুলিশের নামে এমরানের বেপরোয়া চাঁদাবাজির কারণে সংশ্লিষ্টদের মাধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত এই চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তারের দাবিও জানান সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের অভিযোগ, ফয়স লেক এলাকার বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও মোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ চলে। তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠানে চলা অপরাধ আড়ালে রাখতে থানা পুলিশের কথিত ‘ক্যাশিয়ার’ এমরান হোসাইনকে নিয়মিত চাঁদা দিয়ে আসছেন। এজন্য অনেকেই গণমাধ্যমে মুখ খুলছেন না।

জানা গেছে, পুলিশের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির বিষয়টি অবগত হওয়ার পর কথিত ওই ক্যাশিয়ার এমরান হোসাইনকে খুঁজছে খুলশি থানা পুলিশ। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টি সামনে আসায় আত্মগোপনে চলে গেছেন এমরান।

রবিবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় একাধিবার কল করলেও এমরানের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। কথিত এই ‘চাঁদাবাজ’ নগরের টাইগারপাস এলাকায় বসবাস করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত