নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) অফিস অব এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স (ওইএএ) মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট হলে ‘আল্লামা ইকবালের শাহীন (ঈগল) ভাবনা ও আজকের তরুণসমাজ’ শীর্ষক বিশেষ সেমিনার আয়োজন করে। বাংলাদেশে অবস্থিত পাকিস্তান হাইকমিশনের সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দুই দেশের মধ্যে একাডেমিক, সাংস্কৃতিক ও গবেষণাভিত্তিক বিনিময় আরও জোরদার হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপস্থিত ছিলেন এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সম্মানিত সদস্য ও প্রতিষ্ঠাতা আজীবন সদস্য জনাব এম এ কাশেম। মূল বক্তব্য প্রদান করেন পাকিস্তানের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ওরিয়েন্টাল কলেজের উর্দু ভাষা ও সাহিত্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. বশিরা আমব্রিন। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার মুহাম্মদ ওয়াসিফ এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের বাংলাদেশ কান্ট্রি হেড ও সিইও মো. কামরুজ্জামান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এনএসইউ–এর ট্রেজারার অধ্যাপক আব্দুর রব খান। আরও উপস্থিত ছিলেন এনএসইউ ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের চেয়ার অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান এবং বায়োকেমিস্ট্রি ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাফিজুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন ইউনিভার্সিটির এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স অফিসের পরিচালক ড. সিনথিয়া ম্যাককিনি।
স্বাগত বক্তব্যে ড. সিনথিয়া ম্যাককিনি দর্শনচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন আমাদের মনন ও আত্মাকে সমানভাবে সমৃদ্ধ করে। আল্লামা ইকবাল সেইসব প্রশ্ন নিয়েই ভাবতেন, যেগুলো আমরা প্রতিদিন আমাদের জীবনেও অনুভব করি।’
পরবর্তী বক্তৃতায় অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান সমকালীন প্রেক্ষাপটে আল্লামা ইকবালের রচনা নিয়ে নতুন করে ভাবনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, ‘আল্লামা ইকবালের বার্তা মানুষকে আত্ম-অন্বেষণে উৎসাহিত করে, নিজের সামর্থ্য উপলব্ধির পথে এগিয়ে দেয় এবং বিশ্বমানবতার আলোকবর্তিকা হয়ে ওঠার প্রেরণা জোগায়।’
মূল বক্তব্যে ড. বশিরা আমব্রিন ইকবালের ‘শাহীন’ প্রতীকের গভীর দার্শনিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ‘শাহীন কখনো ব্যর্থ হয় না। আপনার আত্মবিশ্বাস দৃঢ় থাকলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আপনি নিজেই আপনার জাতির শাহীন—সাহস ও প্রেরণায় আপনি আপনার জীবনের প্রতিটি দিক বদলে দিতে পারেন।’
ড. মো. হাফিজুর রহমান ‘শাহীন’ ভাবনা থেকে অনুপ্রাণিত একটি কবিতা আবৃত্তি করেন এবং এর সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে সংক্ষিপ্ত মতামত তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম এ কাশেম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, ‘শাহীনের চেতনা ধারণ করে আমরা ভয় ত্যাগ করতে পারি এবং মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে পারি। আল্লামা ইকবাল আমাদের শেখান— জ্ঞানকে কাজে ও উদ্ভাবনে রূপ দিতে হবে। ব্যক্তিগত উন্নতির জন্য নয়, সমাজের বাস্তব সমস্যার সমাধানে শিক্ষার ব্যবহারই প্রকৃত লক্ষ্য হওয়া উচিত।’
অনুষ্ঠানের শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপনকালে ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার অধ্যাপক আব্দুর রব খান অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আল্লামা ইকবালকে ঘিরে আজকের এ আয়োজন আমাদের ভাবনার জগতকে সমৃদ্ধ করেছে। ড. আমবেরিনের গবেষণাপূর্ণ বক্তব্য আমাদের ইকবাল ও আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাবধারার মধ্যে এক ধরনের মিল খুঁজে পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।’
