পটাশিয়াম স্বল্পতা বা হাইপোক্যালিমিয়া

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৩৯ এএম

শরীরে ইলেকটোলাইটের ভারসাম্যহীনতা যেমন সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়ামের স্বল্পতা বা বেশি এ নিয়ে অনেক রোগীকে হাসপাতালে যেতে হয়। শরীরে পটাশিয়াম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। পেশি ও স্নায়ুর কার্যকারিতা ও হার্টের ছন্দ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্বাভাবিক অবস্থায়, রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা প্রতি লিটারে ৩.৫ থেকে ৫.২ মিলিমোল (সঊয়/খ)-এর মধ্যে থাকে।

পটাশিয়াম কমে যাওয়ার কারণ

ঘন ঘন বমি বা ডায়রিয়া! মূত্রবর্ধক ওষুধ, স্টেরয়েড ওষুধ সেবন। ক্ষতিগ্রস্ত কিডনির পটাশিয়াম সংরক্ষণে অসুবিধা হয়। কুশিং সিন্ড্রোম, কোননস সিন্ড্রোম ইত্যাদি অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির রোগ কিডনির পটাসিয়াম ধরে রাখার ক্ষমতাকে ব্যাহত করে। ব্যায়াম, গরম আবহাওয়ার সময় ভারী ঘাম ত্বকের মাধ্যমে পটাশিয়াম বের হয়ে যায়। অপর্যাপ্ত খাওয়া।

কম পটাশিয়ামের লক্ষণ

ক্লান্তি এবং দুর্বলতা। পেশির খিঁচুনি বা বেদনাদায়ক পেশি ক্র্যাম্প। বুক ধড়ফড় করা, মাথা ঘোরানো এবং বুক ব্যথা হতে পারে। হজমে সমস্যা দেখা দেয়, যার ফলে নষড়ধঃরহম, কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেটে অস্বস্তি। উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে হাইপোক্যালিমিয়া শরীরে অষফড়ংৎবড়হব নামক হরমোনের পরিমাণ বেড়ে যায়।

গুরুতরভাবে কম পটাশিয়াম

হার্টের সমস্যা অর্থাৎ এরিদমিয়া, হার্ট ব্লক এবং হার্ট বন্ধ হয়ে যেতে পারে। শ^াসযন্ত্রের ফেইলিউর ভেন্টিলেটর সহায়তার প্রয়োজন হয়। চার হাত-পায়ের মাংসপেশি দুর্বল হয়ে পক্ষাঘাতের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অন্ত্রের মাংস পেশি দুর্বল হওয়ার কারণে পেট ফুলে যায় এবং পায়খানা বন্ধ হতে পারে।

হাইপোক্যালিমিক পিরিয়ডিক প্যারালাইসিস হলো একটি বিরল বংশগত রোগ, যেখানে রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে হঠাৎ পেশি দুর্বলতা বা পক্ষাঘাত হয়। এটি সাধারণত কঠোর ব্যায়াম, উচ্চ-কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার এবং স্ট্রেসের মতো ট্রিগারের কারণে ঘটে। চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন।

রোগ নির্ণয়

রক্ত পরীক্ষা : সেরাম ইলকট্রোলাইট পটাশিয়ামের মাত্রা পরিমাপ করে। ৩.৫ সঊয়/খ-এর কম হাইপোক্যালিমিয়া নির্দেশ করে। ৩ সঊয়/খ-এর কম পরীক্ষা গুরুতর ঘাটতি নির্দেশ করে। ২৪ ঘণ্টায় প্রস্রাবে পটাশিয়াম পরিমাপ নির্ধারণ করে যে কিডনির মাধ্যমে পটাশিয়ামের অত্যধিক বের হচ্ছে কিনা।

ইসিজি : কিছু পরিবর্তন দেখে অনুমান করা যায়।

পরীক্ষা করা : ওষুধের ইতিহাসসহ কিডনি এবং হরমোন গ্রন্থির কার্যকারিতা পরীক্ষা কর।

কম পটাসিয়ামের চিকিৎসা

খাদ্যতালিকা পরিবর্তন : পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন : পাকা কলা, খেজুর, আম, জাম, লিচু, ডালিম, আনার, কাঁঠাল, কিশমিশ, সফেদা, ডাবের পানি, আমড়া, আমলকী, বরই, লেবু, তরমুজ, বেল, কমলা, মালটা, তেঁতুল,  নারিকেল  ইত্যাদি।

মুখে পটাশিয়াম খেতে দেওয়া ট্যাবলেট বা তরল পটাসিয়াম লবণ যেমন পটাশিয়াম ক্লোরাইড এবং পটাশিয়াম বাইকার্বনেট হালকা ঘাটতি পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে।

আইভি পটাশিয়াম : গুরুতর হাইপোক্যালিমিয়ায়  হাসপাতালে শিরায় পটাশিয়াম ইনফিউশন প্রয়োজন হয়।

পটাশিয়ামের মাত্রার কারণ হতে পারে এমন ওষুধ বন্ধ করা, ডায়রিয়া বা বমি নিয়ন্ত্রণ করা বা কিডনি রোগের চিকিৎসা স্বাভাবিক পটাশিয়াম ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত