উত্তরা ইপিজেডে আবারও শ্রমিক বিক্ষোভ

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:২০ এএম

শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের পুনর্বহাল ও হয়রানি বন্ধসহ ৯ দফা দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডের খেলনা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সনিক (বাংলাদেশ) লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে উত্তরা ইপিজেডের প্রধান ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শ্রমিকরা। দুই ঘণ্টাব্যাপী সমাবেশ শেষে জেলা প্রশাসক বরাবর শ্রমিকরা স্মারকলিপি প্রদান করে ফিরে যান। অপরদিকে শ্রমিকদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে একই দিন বিকেলে সনিক (বাংলাদেশ) লি. পরিচালক মি. সু ইয়াংবাও (পোলো) স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছেন।

জানা যায়, ৯ দফা দাবিতে শ্রমিকরা গত তিনদিন ধরে কারখানায় না গিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসছেন। আন্দোলনে তৃতীয় দিন শ্রমিকরা নীলফামারী ডিসি অফিস চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে অভিযোগ করে বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই কারখানার দুই শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবারিক কোনো সমস্যায় ছুটি নিতে চাইলে ছুটি দেওয়া হয় না। দুপুরের খাবারের সময় বৃদ্ধি, নির্ধারিত সময়ে ছুটি প্রদান, কারখানায় দুর্নীতি বন্ধ, বিভিন্ন দাবিসহ দ্রুত ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের চাকরিতে ফেরত নেওয়ার দাবিও জানানো হয়।

শ্রমিকরা আরও জানান, মালিকপক্ষ তাদের ২৬ দফা যৌক্তিক দাবি মেনে নিলেও কারখানার কয়েকজন বাঙালি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এসব দাবি বাস্তবায়নে বাধা দিচ্ছেন। এমনকি তারা কারখানায় দুর্নীতিও করেছেন। তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালে কোনো কারণ ছাড়াই শ্রমিক ছাঁটাই করা হচ্ছে। এমনকি অসুস্থতার জন্য ছুটি চাইলে তা দেওয়া হয় না এবং ওভারটাইম করিয়েও তাদের প্রাপ্য টাকা প্রদান করে না তারা।

বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে বক্তব্য রাখেন সনিক কারখানার শ্রমিক মোহাইমিনুল ইসলাম, রশিদুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, শিমু আক্তার, নাছরিন বেগম, নূর জাহান প্রমুখ।

এদিকে কারখানা কর্র্তৃপক্ষের নোটিসে বলা হয়, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, টিফিন ভাতা প্রদান, পিসি কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নে গত ১৬ নভেম্বর থেকে আন্দোলন শুরু করেন সনিক ফ্যাক্টরির শ্রমিকরা। তারই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ নভেম্বর মালিক পক্ষ শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন এবং শ্রমিকদের ১৮ নভেম্বর থেকে কর্মস্থলে যোগ দিয়ে নিজ নিজ কাজে নিয়োজিত হওয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু শ্রমিকরা সেই আহ্বানে সাড়া না দেওয়ায় এবং উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটায় কারখানার নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন, ২০১৯-এর ধারা ১২ (১) অনুযায়ী অনির্দিষ্টকালের জন্য কারাখানা বন্ধ ঘোষণার বিজ্ঞপ্তিতে উক্ত কারখানার পরিচালক মি. সু ইয়াংবাও (পোলো) স্বাক্ষর করেছেন।

উত্তরা ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার বলেন, বিষয়টি নিয়ে কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসকের পক্ষে একটি কমিটি গঠন করে দ্রুত শ্রমিকদের সমস্যার সমাধান করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত