একই দিনে কুমিল্লায় বিএনপির দুই গ্রুপের কর্মসূচি

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৫৪ পিএম

একই দিনে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে বিএনপির দুই গ্রুপের আলাদা রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কুমিল্লা-৬ (সদর, সদর দক্ষিণ ও সিটি কর্পোরেশন) আসনে দলের মনোনীত প্রার্থী ও চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী এবং মনোনয়ন বঞ্চিত একই পদমর্যাদার নেতা আমিন-উর-রশিদ ইয়াছিনের অনুসারীরা বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) পৃথক জনসভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজনের উদ্যোগ নেন।এতে মাঠটি ঘিরে দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।  

আবেদন সূত্রে জানা যায়, ইয়াছিনপন্থীরা ৩১ দফা প্রচারণা এবং বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজনের জন্য টাউন হল মাঠ ব্যবহারের অনুমতি চান। এ নিয়ে গত ১৮ নভেম্বর জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন জমা দেন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রাহয়ান।

অন্যদিকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মনিরুল হক চৌধুরী একই দিনে টাউন হল মাঠে জনসভা করার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল মতালেব মজুমদার ১৯ নভেম্বর কোতোয়ালী মডেল থানায় বরাবর মাঠ ব্যবহারের জন্য লিখিত আবেদন দাখিল করেন। মাঠ বরাদ্দকে কেন্দ্র করে বুধবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে উত্তেজনা আরও বাড়ে। 

দেখা যায়, ইয়াছিনপন্থীরা মাঠে বাঁশ গেড়ে প্যান্ডেল তৈরির কাজ শুরু করেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম ঘটনাস্থলে যান। তারা প্রশাসনের কাছে নিয়ম অনুযায়ী যার নামে মাঠ বরাদ্দ হয়েছে, তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, গত ৩ নভেম্বর আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনিরুল হক চৌধুরীর নাম ঘোষণার পর থেকেই মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমিন–উর–রশিদ ইয়াছিনের অনুসারীরা বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। সোমবার বিকেলে মনিরুল হক চৌধুরীর পূর্বঘোষিত নির্বাচনী পদযাত্রা গোয়ালপট্রি এলাকায় পৌঁছানোর কয়েক মিনিট আগে ঋষিপট্রি এলাকায় ইয়াছিনপন্থী ও মনিরুলপন্থী নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষ ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে। নিক্ষেপ করা হয় ইটপাটকেল ও ককটেল। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ইয়াছিনের অনুসারীরা সরে যান।

এ বিষয়ে টাউন হল মাঠের সদস্য সচিব সাজ্জাদুল কবীর সাজ্জাদ বলেন, মাঠটি নিয়ম মেনে মনিরুল হক চৌধুরীর নামে বরাদ্দ হয়েছে। তিনি অগ্রিম টাকা জমা দিয়ে আবেদন করেছিলেন। তবে যুবদল নেতা ও ইয়াছিনের অনুসারী সাজ্জাদ বলেন, আমরাও আবেদন করেছি। আমাদের অনুষ্ঠানই হবে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, মাঠ বরাদ্দ দেওয়ার দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের। যাঁদের বরাদ্দ দেওয়া হবে, তাঁরাই ব্যবহার করবেন। আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি।

এ বিষয়ে নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, বিএনপির দুই পক্ষই আবেদন করেছে। ডিএসবি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা সিদ্ধান্ত হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত