বাংলাদেশ ও ভারতের দুই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা গতকাল বুধবার দিল্লিতে বৈঠক করেছেন। তাদের আলোচনায় দুই দেশের মধ্যকার বিভিন্ন বিষয় এসেছে। দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায়।
বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী পাঁচটি দেশের নিরাপত্তাবিষয়ক আঞ্চলিক ফোরাম কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের (সিএসসি) সভায় যোগ দিতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান দিল্লি সফর করছেন। অজিত দোভালের আমন্ত্রণে তিন দিনের সফরে তিনি গত মঙ্গলবার দিল্লি গেছেন। সিএসসির সভায় খলিলুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।
ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার এক সফরসঙ্গী গতকাল অজিত দোভালসহ ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন। দুই উপদেষ্টা কিছুক্ষণ একান্তে কথা বলেন। উপদেষ্টা খলিলুর রহমান অল্প সময়ের জন্য দিল্লির চাণক্যপুরিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে যান।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা করেন। খলিলুর রহমান ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানান।
ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন ও একই দিন তার দিল্লিতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক স্থবির হয়ে আছে। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল প্রথম ও নরেন্দ্র মোদি সরকারের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা যিনি সেদিনই শেখ হাসিনার সঙ্গে দিল্লিতে সাক্ষাৎ করেন।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, অজিত দোভাল মনে করেন বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলোয় ‘সুশাসন না থাকায়’ সরকারের পতন ঘটে।
২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার ও তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে গত সোমবার মৃত্যুদ- দেয়। বাংলাদেশ সরকার তাদের প্রত্যর্পণের জন্য সেদিনই ভারতের প্রতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আহ্বান জানায়। এ আহ্বানের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই খলিলুর রহমান দিল্লি যান।
কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য শিগগির ভারতকে একটি কূটনৈতিক পত্র দেওয়া হতে পারে।
দুই জাতীয় নিরাপত্তার মধ্যে কী কথা হয়েছে, এমন প্রশ্নে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা বলেন, আলোচনার বিষয়বস্ত উচ্চপর্যায়ে সীমিত রাখা হয়েছে। তবে খলিলুর রহমান ও অজিত দোভালকে মোটামুটি ভালোভাবে চেনেন, এমন সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা ও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ছাড়াও দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রসঙ্গ ভারতীয় উপদেষ্টা আলোচনায় তুলে থাকতে পারেন।
অজিত দোভাল ও খলিলুর রাহমানের মধ্যে গতকালের বৈঠকটি চলতি বছরের মধ্যে দৃশ্যত দ্বিতীয় বৈঠক। এর আগে গত এপ্রিলে ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে তারা অনানুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
ভারতের আগ্রহে ২০১১ সালে সিএসসি গঠিত হয়। কলম্বোভিত্তিক সিএসসিতে বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, মরিশাস ও শ্রীলঙ্কা সদস্য। ভারত মহাসাগর অঞ্চলে নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ, মানব পাচার, সাইবার নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষা ও দুর্যোগে সহায়তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সিএসসিভুক্ত রাষ্ট্রগুলো পরস্পরকে সহায়তা দেওয়ার জন্য সিএসসি গঠিত হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে উপদেষ্টা (মন্ত্রী) পর্যায়ে খলিলুর রহমান হবেন দ্বিতীয় ব্যক্তি যিনি সরকারি সফরে দিল্লি যাচ্ছেন। তার আগে জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবীর খান বহুপক্ষীয় একটি সভায় যোগ দিতে ভারত সফর করেন।
