আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো

সাক্ষ্য দিলেন রাজসাক্ষী আবজালুল

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:১৮ এএম

জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার পতনের দিন সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যা ও পরে তাদের লাশ পোড়ানোর মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) পুলিশের সাবেক এসআই (উপ-পরিদর্শক) শেখ আবজালুল হক। গতকাল বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ তিনি জবানবন্দি দেন। তিনি ছয় লাশ পোড়ানোর বিষয়ে বলেন, আশুলিয়া থানার সাবেক ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) এ এফ এম সায়েদ ও এএসআই বিশ^জিত পেট্রোল ঢেলে ছয় লাশ পোড়ানোর ঘটনার সঙ্গে জড়িত। ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চের দুই বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। আবজালুল এ মামলার ২৩ নম্বর সাক্ষী।

জবানবন্দিতে ঘটনার বিবরণীতে তিনি বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট মরদেহ পোড়ানোর সময় তিনি ছিলেন না। তবে ১৫ আগস্ট তিনি তার নিজের নামে থাকা অস্ত্র জমা দিতে আশুলিয়া থানায় গিয়ে লাশ পোড়ানোর বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি জানতে পারেন ওসি সায়েদ ও এ এস আই বিশ^জিত এ লাশ পোড়ানোর ঘটনার সঙ্গে জড়িত। জবানবন্দিকালে আবজালুল বলেন, তিনি জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বিবেকের তাড়নায় এ সাক্ষ্য দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘শহীদ ভাইদের জন্য কিছু করতে না পারায় তাদের পরিবার ও ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’ আবজালুলের জবানবন্দি শেষে তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। আজ বৃহস্পতিবার অসমাপ্ত জেরা অনুষ্ঠিত হবে।

আশুলিয়ায় হত্যা ও লাশ পোড়ানোর মামলায় গত ২ জুলাই স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ১৬ জনকে আসামি করে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। ওই দিন অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। এরপর ২১ আগস্ট ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ওই দিন আদালতে উপস্থিত আট আসামির মধ্যে সাতজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তবে, এসআই আবজালুল হক দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ার আরজি জানালে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বছরের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে ৫ জন নিহত হন এবং একজন গুরুতর আহত হন। পরে ৫ জনের লাশ এবং আহত ব্যক্তিকে পুলিশ ভ্যানে তুলে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। নিহতদের মধ্যে ৫ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন, সাজ্জাদ হোসেন সজল, আস সাবুর, তানজীল মাহমুদ সুজয়, বায়েজিদ বোস্তামি ও আবুল হোসেন। এ মামলায় গ্রেপ্তারকৃত ৮ আসামি হলেন, ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম, সাবেক পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই শেখ আবজালুল হক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান ও কনস্টেবল মুকুল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত