নেপালে আবারও ‘জেন-জি’ বিক্ষোভ কারফিউ জারি

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:১৪ এএম

নেপালে সিপিএন-ইউএমএল কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের এক দিন পর আবার রাস্তায় নেমেছে দেশটির সিমারা এলাকায় ‘জেন-জি’ প্রজন্মের তরুণরা। গতকাল বৃহস্পতিবার ওই ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় সময় রাত ৮টা পর্যন্ত ওই এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। সিমারার সহকারী প্রধান জেলা কর্মকর্তা ছবিরামন সুবেদি কারফিউয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল স্থানীয় সময় বেলা ১১টা থেকে বিক্ষোভকারীরা সিমারা চকে জড়ো হতে শুরু করেন। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য শক্তি প্রয়োগ করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্র্তৃপক্ষ দুপুর পৌনে ১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করে। এর আগে গত বুধবার সংঘর্ষে জড়িত সন্দেহে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররা হলেন জিতপুরসিমারা সাব-মেট্রোপলিটন সিটির ২ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান ধন বাহাদুর শ্রেষ্ঠ এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান কাইমুদ্দিন আনসারি।

তবে বিক্ষোভকারী তরুণদের অভিযোগ, বুধবার সংঘর্ষের ঘটনায় তারা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন, পুলিশ তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করেনি।

‘জেন-জি’ জেলা সমন্বয়ক সম্রাট উপাধ্যায় জানান, তারা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, সেই অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজনকে এখনো আটক করা হয়নি।

বুধবার দিনভর ‘জেন-জি’ প্রজন্মের তরুণ ও ইউএমএল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। সংঘর্ষ সিমারা বিমানবন্দরের কাছে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে, ফলে বিমানবন্দরের কার্যক্রমও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। ইউএমএল বুধবার পারওয়ানিপুরে তাদের দলীয় কর্মসূচি ‘যুব জাগরণ অভিযান’ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ইউএমএলের সাধারণ সম্পাদক শঙ্কর পোখরেল এবং পলিট ব্যুরো সদস্য মহেশ বসনেটের কাঠমান্ডু থেকে সিমারা বিমানবন্দরে আসার কথা ছিল।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সম্রাট উপাধ্যায় ফেসবুকে একটি পোস্টে লিখেছিলেন, যেখানে তিনি ‘হত্যার রাজনীতি করা বিদায়ী সরকারের’ বিরুদ্ধে সিমারায় প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান। এ পোস্টটি জেলা জুড়ে ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়েছিল। এতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।

সেদিন সকাল ১০টার দিকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ তরুণ সিমারা চকে জড়ো হন। জানা যায়, তাদের অনেকেই ইউএমএল নেতা মহেশ বসনেটের আগমন নিয়ে প্রতিবাদ করার পরিকল্পনা করছিলেন। কারণ, অতীতে আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক ভূমিকার কারণে তিনি কঠোরভাবে সমালোচিত হয়েছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত